থ্রিলার

বাটারফ্লাই ইফেক্ট PDF Download আমিনুল ইসলাম

‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’। নামটাই একটু আলাদা। কেমন যেনো অদ্ভুত সুন্দর! হ্যাঁ, আসলেই সুন্দর। বাটারফ্লাই ইফেক্ট আমিনুল ইসলামের প্রথম বই। আমি যতদুর জানি আর কি। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন লেখক একদম নতুন। কিন্তু তার লেখা মোটামুটি ভালোই।
তো তার এই বাটারফ্লাই ইফেক্ট বই গডফাদার সিরিজের প্রথম বই।

১২৮ পৃষ্ঠার এই নভেলা কিংবা উপন্যাসিকাটি প্রকাশিত হয়েছে সতীর্থ প্রকাশনা থেকে। যারা এখন পর্যন্ত বইটি পড়তে পারেন নি তাদেরকে বলবো দেরি না করে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে বইটির পিডিএফ ফাইল সংগ্রহ করে দ্রুত পড়ে ফেলুন!

কাহিনী সংক্ষেপ

রাত ৯ টা পাঁচ অফিসের বস ইকবাল খানের সাথে দেখা করতে এসেছে সাব্বির। অফিসের ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে আপোষ করতে এসেছে। কিন্তু বসের ফ্ল্যাটে ঢুকেই আবিষ্কার করে ইকবাল খানের মৃত দেহ। দেখেই বেশ চমকে যায় সাব্বির। ঘাবরেও যায়। কি করবে সে? পুলিশকে খবর দেয়া ছাড়া আর কি-বা করার আছে! ঘটনার তদন্ত শেষে ডিবি অফিসার নিজাম উদ্দিন সাব্বিরের বিরুদ্ধে সকল প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করে। বেশ ভালোভাবেই ফেঁসে যায় সে। সে কি আর মুক্তি পেয়েছিল?

এদিকে আবার ক্রাইম কনসাল্টটেন্ট অর্ক খুন দুটোর মাঝে সিরিয়াল কিলিং এর আভাস পায়। অবশেষে খুঁজা খুঁজি করতেই বেরিয়ে এলো আরও কিছু খুনের ঘটনা। বেশ ভালোই লম্বা একটা তালিকা। কিন্তু সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, সবগুলো খুনের খুনিই প্রমাণসহ ধরা পড়েছে! তাহলে? তদন্তের গভীরতা বাড়ে এবং ঘটনা মোড় নেয় হিমেলের বলা স্কুল জীবনের একটা ঘটনা থেকে। সেই সাথে ঘুরে ফিরে সামনে আসে অর্ক’র অতীত জীবনের গল্পগুলো। এরপর ঘটে আরও আশ্চর্য জনক ঘটনা! সেটা বলবো না। বললে স্পয়লার দেওয়া হয়ে যাবে!

আশ্চর্য, বিষয় বটে! এখন কী করবে অর্ক? পারবে নিজেকে বাঁচিয়ে খুনিকে ধরতে? শুরুতেই অনেক প্রশ্ন রহস্য! কোনটা রেখে কোনটার কথা ভাবা যায়! এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হলে পড়ে ফেলতে হবে অসাধারণ রহস্যময় এই বইটি!

উপন্যাসিকা’টি মূলত একটি ক্রাইম থ্রিলার, এক বসায় অনায়াসে বিরক্তিহীন ভাবে গল্পে ডুবিয়ে রাখার মত, টুইস্টে ভরপুর এবং সবগুলো টুইস্ট ই অনেক উপভোগ্য, আর সিরিয়াল কিলারের ভিক্টিম নির্বাচনের প্যাটার্ন টা বেশ ইউনিক মনে হয়েছে৷ তবে সাইশা চরিত্রটি একটু খাপছাড়া লেগেছে, আরো স্ট্রং একটা চরিত্র হতে পারত, কিন্তু তাতে খুব বেশি একটা প্রবলেম হয়নি। হলে বইটা এতো ভালো লাগতো না। আর মিতু চরিত্র টা ইন্টারেস্টিং বাট কিছুটা প্রেডিক্টেবল।

তবে চরিত্র গুলোকে লেখক এমন ভাবে বিল্ড করেছেন যে, আঁচ করা কিছুটা কষ্টসাধ্য যে কখন কোনদিক দিয়ে কে বা কারা ঘটনা গুলো ঘটাচ্ছে। এবং এটাই লেখকের সার্থকতা। এই জিনিসটা কিন্তু অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার! গল্পের পুরো সময়টা ভালোই থ্রিলিং ছিল, তাছাড়া বইটির নামকরণ এর স্বার্থকতাও লেখক বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন গল্পে। নতুন কোনো লেখকের লেখা পড়ছি বলে মনে হয়নি।

যেহেতু নভেলা, গল্পের মধ্যে একটু তাড়াহুড়ো ছিল। সেটা স্বাভাবিক মনে হয়েছে,আরেকটু কম তাড়াহুড়ো করলেও পারতেন হয়ত। ভালো হতো যদি আরও ঠান্ডা মাথায় লিখতেন। এটা একটা সিরিজ যাকে “গডফাদার সিরিজ” বলা হয়েছে। এটা আমি প্রথমেই বলেছি। সেহেতু পরবর্তীতে লেখক থেকে আরো একটি ভালো বই পাওয়ার এক্সপেকটেশন রাখাই যায়। তবে এই কথাও সত্যি যে বইটা পড়ার সময় মনে হয়েছে, সুন্দর একটা বিশাল প্লট লেখক জোড় করে ছোট করে ফেলেছেন!

সবশেষে একটা কথাই বলবো, বইটি পড়ুন। একটুও ঠকবেন না। অন্তত আমার সেটাই মনে হয়।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.