উপন্যাস

দ্য মিনিস্ট্রি অফ আটমোস্ট হ্যাপিনেস PDF Download অরুন্ধতী রায়

দ্য মিনিস্ট্রি অফ আটমোস্ট হ্যাপিনেস ‘ উপন্যাসটির রচয়িতা হলেন অরুন্ধতী রায়। ১৯৯৭ সালে প্রথম উপন্যাস ‘দ্য গড অফ স্মল থিংস’ প্রকাশিত হবার পর ২০ বছর পরে লেখিকা তার এই উপন্যাস ২০১৭ সালে প্রকাশ করেন। এই দীর্ঘ সময় কোন উপন্যাস না প্রকাশ করলেও তিনি উপন্যাস রচনার রসদের পিছনেই দৌড়ে বেরিয়েছেন।

প্রথম উপন্যাস রচনার পর থেকে অরুন্ধতী রায় ‘প্রতিবাদী রাজনীতির’ সাথে যুক্ত ছিলেন, কখনো মাওবাদী কখনো বা ভূমিহীন-দলিত আবার কখনো বা কাশ্মীরি বিচ্ছন্নতাবাদীদের হয়ে কথা বলেছেন। আর এসব করতে গিয়ে সরকার ও পুঁজিবাদীদের আগ্রাসী মনোভাবের স্বীকার হয়েছেন।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধেও তার অবস্থান বেশ শক্ত। আর এইসব কিছুর অভিজ্ঞতা ও এসবের সুস্পষ্ট প্রতিফলন তার বইতে লক্ষ্যনীয়। অরুন্ধতী রায় নিজেই বলেছেন এই বিশ বছর তিনি সাহিত্য থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি, তিনি শুধু মাত্র প্রকাশ করার সুযোগ পাননি তাই এই উপন্যাস পাঠকদের কাছে পৌঁছাতে এত সময় লাগলো।

উপন্যাসটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুইটি সমান্তরাল গল্প একটি হলো দিল্লির একজন ‘হিজরা’ মেয়ে আনজুমের জীবন সংগ্রামের গল্প আরেকটি হলো স্থাপত্যকলার ছাত্রী তিলোত্তমা ও পুলিশেরনহাত থেকে পালিয়ে বেড়ানো তার কাশ্মীরি প্রেমিকের কাহিনী। এই তিলোত্তমা যে লেখিকারই প্রতিরূপ তা উপন্যাসের কাহিনী গড়ানোর সাথে সাথে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এই দুইটি গল্পের মাধ্যমে রচয়িতা তুলে ধরেছেন আধুনিক ভারতের এক অন্ধকার জগতের গল্প। যেখানে নারী তার অধিকার থেকে বঞ্চিত, মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের দিন কাটাতে হয় অনিশ্চয়তায়, অসাম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে সমাজের রক্তচক্ষুর স্বীকার হয়ে পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে বেরাতে হয় যুব সমাজকে।

আধুনিক ভারতের সাম্প্রতিককালের প্রায় সবচিত্রই স্থান পেয়েছে উপন্যাসে, কোন ঘটনাই যেন লেখিকার দৃষ্টিকে ফাঁকি দিতে পারেনি। গুজরাটের দাঙ্গা, ভূপালের গ্যাস বিস্ফোরণ, দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্র বিক্ষোভ সব কিছুই স্থান পেয়েছে উপন্যাসের গল্পে।

ভারতের বর্তমান সময়ের সামন্ততান্ত্রিকতা, শ্রেণিবিভক্তিকরণ, সাম্প্রদায়িকতা ও দূর্নীতি নির্ভর যেই সংস্কৃতির চর্চা হচ্ছে তা কতটা ভয়াবহ এই উপন্যাস পাঠ করলে তা বোঝা যায়। ধর্মের নামে ক্ষমতা দখল, ধর্মকে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ রক্ষা করা, অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সম্পদ কেড়ে নেওয়া এসব কীভাবে নিত্যদিনের ব্যপারে পরিণত হচ্ছে তাই নিয়েও লেখিকা সংকা প্রকাশ করেছেন।

কিন্তু এতসব অনিয়ম ও দূর্নীতির মাঝেও যে মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা আছে, প্রেম আছে, দরদ আছে আর এসবের জন্যই যে মানুষ একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশা করে তা গল্পে প্রকাশ পেয়েছে। উপন্যাসটিতে বিশেষত কাশ্মীর নিয়ে যেভাবে আলোচনা করা হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

বইটি বাংলা ভাষাও অনূদিত হয়েছে আমাদের দেশে এই অনূদিত সংখ্যার প্রকাশক হলো ‘অন্যধারা প্রকাশন’ ও অনুবাদ করেছেন ‘প্রমিত হোসেন’। সমসাময়িক সময়ের একটি অসাধারণ উপন্যাস হিসেবে এই উপন্যাস সাহিত্য জগতে নিজের একটি জায়গা করে নিয়েছে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.