থ্রিলার

অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন PDF Download মনোয়ারুল ইসলাম

বর্তমান প্রজন্মের একজন প্রতিশ্রুতিশীল এবং তরুণ লেখক হলেন মনোয়ারুল ইসলাম। বয়সে খুবই তরুণ এই লেখক। অথচ ইতিমধ্যেই অনেক জনপ্রিয় বইয়ের লেখক তিনি। অতিপ্রাকৃত আর থ্রিলার লেখাতেই বেশি সুনাম কুড়িয়েছেন। তেমনই তাঁর একটা টানটান থ্রিলার হলো ‘অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন’। নাম শুনে ঘূনাক্ষরেও বুঝবার উপায় নেই যে, এটি একটি থ্রিলার বই! বইটি যারা এখনো পড়তে পারেন নি তারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে বইটির পিডিএফ পড়ে ফেলতে পারেন।

কাহিনী সংক্ষেপ

একের পর এক যুবতি খুন হচ্ছে। ক্লু হিসেবে শুধু মাত্র গলায় হেক্সো ব্লেডের গভীর ক্ষত আর চিরকুট। জীবনানন্দ যেনো ছাপ ফেলে গেছে শান্তি এবং ভালোবাসার। অথচ যুবতির লাশ চিরকুটের নৃশংসতার প্রতীক। না আছে কোনো ফিঙ্গার প্রিন্ট, না আছে কোন সিসি টিভি ফুটেজ। এই কেসের ভারপ্রাপ্ত পিবিআই কর্মকর্তা আসিফ আলী ঠিক একই ধরনের অমিমাংসিত ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন বহু আগে। সেই জীবনানন্দের কবিতা লেখা চিরকুট অথচ খুনের ধরন আলাদা। তাহলে কি একই খুনি ফিরে এসেছে? নাকি খুনি আলাদা? কি ভাবে আটকাবে এই সিরিয়াল কিলার কে? যে নিজেকে একজন শিল্পী হিসেবে পরিচয় দেয়? জট খুলতে গেলে কি অমিমাংসিত কেসের জট ও খুলে যাবে?

আচ্ছা, কখনো কি ভেবেছেন যে সুদর্শন পুরুষের কবিতার প্রেমে পড়েছিলেন, তার হাতের হেক্সো ব্লেডে ভয়াবহ মরন যন্ত্রনা অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। দমবন্ধ লাগছে। এখন মুক্ত বাতাসের থেকেও বেশি প্রয়োজন এই মানুষটার কাছ থেকে নিস্তার। যার নেশা যৌনতা নয়, শুধু মাত্র রক্ত আর রক্ত। অথচ উপায় নেই। মৃত্যু অনিবার্য। আপনি জানেন আর কোন উপায় নেই।

‘লাশকাটা ঘরে নিয়ে গেছে তারে
কাল-রাতে- ফাগুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমের চাঁদ
মরিবার হলো তার সাধ।’

ঠিক এমনই একটি কবিতা শুনিয়ে যদি বলে উত্তর দিতে পারলে আপনি নিশ্চিত মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসতে পারবেন। অথচ আপনি জানেন, তার চোখে আপনি মৃত্যুর উল্লাস দেখছেন। আপনার মুক্তি নেই৷ কোন ভাবেই নেই। কেমন বোধ হবে আপনার? ‘অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন’ আপনাকে নিয়ে যাবে এমনই এক সময়ে। যেখানে সময়ে সময়ে আপনার শরীর কাটা দিয়ে উঠবে, কখনো লাগবে দমবন্ধ। অথচ শেষ না করে উঠতে পারবেন না। প্রতিটি পেইজের মধ্যেই নতুন চমক অপেক্ষা করছে। মনে হবে এইতো জানেন সব রহস্য। খুলে ফেলেছেন সব গিট। অথচ চেনা জানা খুনি অচেনা থেকে যাবে পাঠকের কাছে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত!

বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠা যেন একেকটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে সহায়তা করে।
আদৌ কি কোন সম্পর্ক আছে?

‘অতঃপর কবি মঞ্চে উঠিলেন’!

বইয়ের নামকরণটি যেমন দারুণ বইটির কাহিনি ও তেমন অসাধারণ।
বইটির কাহিনীর বিল্ডিং আপ অনেক সুন্দর। সত্যি কথা বলতে যখন আমি বইটি পড়া শুরু করি তখন মনে হয়েছিল যে একটা ঘটনা থেকে আরেকটা ঘটনার সম্পর্ক কি? এত সুন্দর করে একটি ঘটনার সাথে আরেকটি ঘটনার জোড়া লাগিয়েছে লেখক তা নিঃসন্দেহে অসাধারণ। বইটি পড়ে বোর ফিল করার কোন প্রশ্নই আসে না।বইটি পড়ে ইনভেস্টিগেশন এবং ফরেনসিক বিষয়ে অনেক অজানা ব্যাপার জানতে পেরেছি।

এছাড়া বইয়ের চরিত্রায়ন ছিল দক্ষনীয়। বেশ অনেকগুলো চরিত্রই আছে পুরো বইটা জুড়ে। প্রধান যে চরিত্র তাকে খুবই যত্নসহকারে একটু একটু করে গড়ে তুলেছেন লেখক। এছাড়া মনোয়ারুল ইসলামের লিখনীও বেশ ভালো। রসিয়ে রসিয়ে উপভোগ করা যায় তার লেখা।
যাই হোক, বইটা একটু আলাদাই। প্রথম দিকে একটু স্লো মনে হতে পারে, অবশ্য লেখকের বৈশিষ্ট এটা। তবে কয়েক পৃষ্ঠা ধৈর্য্য ধরে পড়লেই ঢুকে যাবেন কবিতার জগতে!

সবশেষে বলবো, থ্রিলার ঘরনার একটু আলাদা কিছু ট্রাই করতে বইটা পড়ে ফেলুন।

Show More

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.