থ্রিলার

ব্রিজরক্ষক PDF Download নাজিম উদ দৌলা

থ্রিলার লেখক হিসেবে মাঝে মাঝেই নাজিম উদ দৌলার নাম শুনা যায়। একজন দারুন থ্রিলার লেখক হওয়ার পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ স্ক্রিপ্ট রাইটারও তিনি। বেশ কিছু সফল নাটক সিনেমার গল্প লিখেছেন তিনি। অবশ্য লেখক হিসেবে পরিচয়টাই বেশি তার। তার তৃত্বীয় বই হলো ‘ব্রিজরক্ষক’ বইটা বেশি বড় না। ছোট্ট ১১১ পৃষ্ঠার নভেলা টাইপ, তবে দারুন উপভোগ্য। বইটা খুব সহজেই আমাদের ওয়েবসাইট থেকে পড়ে ফেলতে পারবেন পিডিএফ এর মাধ্যমে।

কাহিনী সংক্ষেপ

বিখ্যাত গণিতবিদ প্রফেসর আলমগীর মানসিক ভারসাম্য হারানোর ফলে ভর্তি আছে সিটিজেন সাইক্রিয়াটিক সেন্টারে। বছরের পর বছর চিকিৎসায় কোনো সমাধানই পায় নি ডাক্তাররা। এদিকে এরই মধ্যে বিদেশের পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে দেশে এসেছে ডক্টর ইকবাল মাহমুদ। দেশের হয়ে, দেশের সেবা করা তার ইচ্ছা। “সিটিজেন সাইক্রিয়াটিক সেন্টার”-এ জয়েন হওয়ার প্রথম দিনই তার জীবনটাকে একেবারের জন্য পাল্টে দেয়। ভিআইপি চেম্বারে থাকা প্রফেসর আলমগীরের কেইস উঠে আসে ডক্টর ইকবালের হাতে।

দেশের একজন উজ্জ্বল রত্ন হলো প্রফেসর আলমগীর। তার এই করুণ অবস্থা দেখে ইকবাল তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা শুরু করে। এক পর্যায়ে সাধাসিধে কলেজ শিক্ষকের বড় গণিতবিদ হয়ে উঠার গল্প জানতে পারে ইকবাল। জানতে পারে আরেকটি অদ্ভুত থিওরির সম্পর্কে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় ” World conference on Science and Mathematics”, বাংলাদেশের একজন সামান্য কলেজ শিক্ষক সেখানে গিয়ে ড. জনের মাধ্যমের জানতে পারে নট থিওরি সম্পর্কে। শুরু হয় হর্স্ট শুবার্টের অসমাপ্ত রহস্য সমাধানের নিরব গবেষণা। একের পর এক বিজয় নিশান প্রফেসর আলমগীর ছিনিয়ে আনতে পারলেও পারেননি গণিতের সবচেয়ে বড় রহস্য সমাধান করতে!

ঠিক উল্টো দিকে গায়েব হয়ে যায় প্রফেসর জন স্টুয়ার্ট। প্রফেসর আলমগীরের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে ইকবাল জানতে পারে এক থেকে বিশের (১-২০) মধ্যে মোট সংখ্যা হলো একুশটি। যার মধ্যে একটা সংখ্যার নাম হলো ব্রিজ। ব্রিজ সংখ্যাটি বের করার সাথে সাথে গণিত শাখার অসংখ্যা অসংজ্ঞায়িত উত্তর। তবে রহস্যের এখানেই শেষ না। ব্রিজ সংখ্যাটি খুলে দিবে ইনফিনিটি জগতের দরজা। তবে এই ব্রিজকে রক্ষা করছে এক অদৃশ্য সত্তা। কাউকে ব্রিজের কাছে যেতে দেয় না সে। ব্রিজরক্ষক! কে সে? কি আছে এই ব্রিজ সংখ্যাটার মধ্যে? এমন হাজারো প্রশ্ন মাথায় নিয়ে নেমে পড়ে ডক্টর ইকবাল। রহস্যের সমাধান কি আদৌ সম্ভব? সেসবের উত্তর লুকিয়ে আছে বইটাতে।

অসাধারণ এলকটা বই। শুরুর আগেই লেখক ‘লেখকের কথা’র মধ্যে খুব সুন্দরভাবে তার গল্পের আইডিয়া কিসের মাধ্যমে পেয়েছে তা বলে দিয়েছে। একজনের অসমাপ্ত আর্টিকেলকে এতো সুন্দর একটা উপন্যাসের পরিনত করার জন্য লেখকের প্রশংসা করতেই হয়। গল্পটি শুরু হওয়ার প্রথম দিকের উপক্রমণিকার সাথে শেষের অধ্যায়ের মিল দেওয়াটা ২০১৭ সাল অনুযায়ী খুবই উচ্চ পর্যায়ের চিন্তার ফল। তাছাড়া গল্পটার পড়ার সাথে সাথে কোনো চরিত্রের প্রতি নেশা ধরিয়ে ফেলতে লেখক শত ভাগ সফল হয়েছে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রফেসর আলমগীরের চরিত্রটাকে অনুভব করতে পেরেছি সারা গল্প জুড়ে। আর যেটা না বললেই না গল্পটা পড়ার পর আমার বাদাম খেতে ইচ্ছে করেছে ব্যাপকভাবে। যারা সায়েন্স ফিকশন পড়ায় অভ্যস্ত আছেন তার গল্পটা পড়ার সময় খুব সহজই অনেকগুলো জিনিস বুঝে যাবেন। গল্প পড়ার মাঝের দিকে থেকে শেষ পর্যন্ত এক মিনিটের জন্যও বইটা হাত থেকে রাখতে ইচ্ছা করবে না!

এই বইয়ের প্লট খুবই বিস্তৃত। কিন্তু সে হিসেবে বর্ণনা কিছুটা কম। তাতে পড়তে অসুবিধা হবে না। তবে বইটা শেষ করার পর মন খুতখুত করবে। সে হিসেবে যদি আরও একটু বেশি বর্ণনা দিলে পারফেক্ট হতো। দুই তিনটা বানান ভুলও ছিল। অবশ্য আজকালকার বইগুলো যেন বানান ভুলের উর্ধ্বে নয়!

সবশেষে একটা কথাই বলবো, ছোটখাটো ভুলগুলো বাদ দিয়ে সব মিলিয়ে বইটা দারুন উপভোগ করতে পারবেন এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.