উপন্যাস

ডাকাত রাজা PDF Download দেবারতি মুখোপাধ্যায়

‘দেবারতী মুখোপাধ্যায়’ অপরিচিত একটি নাম। তার কারন তিনি ওপার বাংলার লেখিকা। তবে একেবারেই অপিরিচ কিন্তু না। থ্রিলার কিংবা হালকা টানের ঐতিহাসিক উপন্যাসকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনে তাঁর জুড়ি নেই। সম্প্রতি তার একটা বই ‘ডাকাত রাজা’ খুব জনপ্রিয়। বইটি একই বছরে আট বার মুদ্রন করতে হয়, দুই বাংলায় এতটায় জনপ্রিয় হয়েছে বইটি। এই অসাধারণ বইটি যারা পড়েন নি তারা দারুন কিছু মিস করে বসে আছেন। সুতরাং আমাদের ওয়েবসাইট থেকে বইটির পিডিএফ পড়ে ফেলুন অনায়াসে।

কাহিনী সংক্ষেপ

হাজার বছর আগের একটি রাজ্য। দ্বারকেশর নিদীর তীরে অবস্থিত ছোট্ট একটি অরণ্য রাজ্য হিসেবে পরিচিত। রাজ্যটিরনাম হলো, মল্লরাজ্য। প্রায় সব মানুষের স্মৃতিপঠ থেকে মুছে গেছে এই নাম। কিন্তু এটাই বাংলার একমাত্র রাজ্য যা কিনা একই বংশধর ধরে প্রায় এক হাজার বছর শাষিত হয়! কাহিনি আবর্তিত হয়েছে সেই মল্লরাজ্যের উনপঞ্চাশ তম রাজা বীরহাম্বীরকে নিয়ে। তিনি ছিলেন যোগ্য একজন শাষক। কিন্তু রাতের আঁধারে হয়ে উঠিতের দুধর্ষ ডাকাত। তার সে কীর্তি অবশ্য গোপন।

যাই হোক, শুরুটা যুবরাজ বীরহাম্বীর এর যুবক বয়সের যুদ্ধ পরীক্ষা দিয়ে শুরু। তখন সেখানে তার ডাকাতির হালকা পাতলা ধারনা দেয়া হয়। কিন্তু পুরো বইটা জুড়ে আছে অন্য এক রহস্য। শান্তিপ্রিয় এই মল্লরাজ্যে হঠাৎই একদিন আগমন ঘটে রুদ্রাক্ষ নামের এক মধ্য বয়স্ক যুবকের। তবে তার আসল নাম রুদ্রাক্ষ নয়। কি তার পরিচয়। অনেক দূর থেকে সে হঠাৎ কেন আসলো মল্লরাজ্যে? আর এসে একেবারে খুটি গেড়ে বসলো?

অপরদিকে রাজা বীরহাম্বীর ভাগ্যগুণে পেয়ে যান বৈষ্ণব পন্ডিত ‘শ্রনীবাস আচার্য’কে। নিতান্তই ভালো মানুষ তিনি। রাজাও তাঁকে খুব পছন্দ করেন। ঝুকে যান সে বৈষ্ণব ধর্মের দিকে। কিন্তু মল্লরাজ্যের ধর্ম বৈষ্ণব না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সহ আরও কয়েকজনের মনে চলতে থাকে অসন্তোষ। ঘোট পাকতে থাকে এক স্বরযন্ত্রের।

অপরদিকে শুনা যায় কালাপাহাড় এর আগমন ঘটতে পারে এই মল্লরাজ্যে। সেই কালাপাহাড়, যে কিনা ছিল মেধাবী, বিশিষ্ট ব্রাক্ষন সাধু। কিন্তু বাদশাহ সুলতানের মেয়ে বিবাহে, যাবনের মেয়ে বিবাহ করার অপরাধে যাকে সমাজ ত্যাগ করতে হয়। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে সুলতানের জামাতা হয় সে। সাথে সেনাপতির আসনে আসীন হয়। প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধের আগুনে পরিনত হয় হিংস্র দানবে। কামরূপ আর উৎকল ধ্বংসের পর সে কি এই মল্লরাজ্যে আক্রমন করবে? যদি করে তবে কি তার বিশাল থাবা থেকে মুক্তি মিলবে এই মল্লরাজ্যের? নাকি পরিনত হবে ধ্বংস স্তুপে? এসকল প্রশ্নের উত্তর জানতে পড়ে ফেলতে হবে বইটি।

ডাকাত রাজা বইটাকে ঐতিহাসিক থ্রিলার না বলে বরং ঐতিহাসিক রোমাঞ্চকর উপন্যাস বললেই বরং বেশি মানাবে। সময় সাময়ীক ঐতিহাসিক থ্রিলার উপন্যাস গুলোতে দেখা যায়, হাজার বছরের লুক্কায়িত সত্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে বর্তমানের কাহিনী। কিন্তু এই বইটা শুরু থেকে শেষ পুরোটা জুড়েই রয়েছে ইতিহাস। অনেকের মনে হতে পারে এই ইতিহাসের কচকচানি কেন ভালো লাগবে? ইতিহাস সম্পর্কে যার নুন্যতম আগ্রহ আছে তার অবশ্যই ভালো লাগবে। একজন ইতিহাস প্রেমি হিসেবে আমি অন্তত এইটুকু বলতে পারি যে, এই বই আপনাকে রোমাঞ্চিত করবে।

চরিত্র

ঐতিহাসিক থ্রিলার হোক আর একটা সাধারণ উপন্যাসই হোক, সেখানে অনেক চরিত্রে ঘনঘটা দেখা যায়। এখানেও তাই।
বইটার মূল চরিত্রে আছে, মল্লরাজ্যের রাজা বীরহাম্বীর। তাঁর মেজপুত্র অর্থাৎ মেজরাজকুমার শীতল। ছোটরাজকুমার রঘুনাথ। তার বন্ধু পবন। পবন একজন শ্রুদ বংশের হয়েও, রঘুনাথ আর পবনের বন্ধুত্ব আমাকে স্পর্শ করেছে।
এছাড়াও আছে, রাজমাতা স্বর্ণময়ী। আছে প্রধানমন্ত্রী জীমূতবাহন। তার মেয়ে মোনোহরা। আছে কেশব ছড়াকার।
রুদ্রাক্ষ সহ ছোট বড় আরও নানা চরিত্র আছে।

সবশেষে বলবো, আপনার যদি একটু হলেও ইতিহাস জানার আগ্রহ থাকে, ভালো ফিকশন চান তবে এই ডাকাত রাজা অবশ্যই আপনার ভালো লাগবে।

Show More

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.