সাইন্স ফিকশন

ধোঁয়াশা PDF Download জাকিউল অন্তু

‘জাকিউল অন্তু’ একজন নতুন লেখক। তবে এই লেখককে আমি চিনি। ফেসবুকে তার বেশ কিছু লেখা পড়ার কারনে তার লেখার সাথে আমি পরিচিত। বরাবরই খুব ভালো লিখেন তিনি। সাইন্স ফিকশন গুলো বেশি ভালো! তার প্রথম বই এই ‘ধোঁয়াশা’। এই বইটা আসলে কোন জনরায় ফেলবো ঠিক বুঝি না, তবে বলা যায় এটা সাইন্স ফিকশন এর সাব জনরা ‘স্টিমপাংক’। এই জনরায় এর আগে কোনো কাজ হয়নি! ভূমি প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয় বইটি। যারা বইটি এখনো পড়তে পারেন নি তারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে বইটির পিডিএফ ফাইল সংগ্রহ করে পড়ে নিতে পারেন অনায়েসে।

জনরটা যেহেতু সবার পরিচিত নয় তাই একটা ধারনা দেই। সংক্ষেপে বলি_ গেলে রাণী ভিক্টোরিয়ার যুগ(১৮৩৭-১৯০১) অর্থাৎ ভিক্টোরিয়ান যুগের অ্যাস্থেটিক পোশাক-আশাকে সজ্জিত মানুষ ও তাদের বাষ্পীয় ইঞ্জিনে চলা যন্ত্রনির্রভর জীবন। যেখানে বাষ্পচালিত ইঞ্জিন শক্তির মূল উৎস। এটা হচ্ছে রেট্রোফিউচারিস্টিক বা বিকল্প ভবিষ্যৎ। অর্থাৎ ভবিষ্যতের একটা বর্তমান বিকল্প রূপ। এখানে ভবিষ্যতের যন্ত্রপাতি থাকবে কিন্তু আদ্যিকালের উপাদান দিয়ে সেগুলো তৈরি হয়।

কাহিনী সংক্ষেপ

উপন্যাসটা শুরু হয় এক যুবকের বিভ্রান্তি দিয়ে। যে আহত হওয়ায় নিজেকে নিয়ে বিভ্রান্ত। তারপর আস্তে আস্তে তার সবকিছু মনে পড়ার সাথে সাথে কাহিনি অগ্রসর হয়। উঠে আসে “ধোঁয়াশা” শহরের কথা। ধোঁয়ায় মোড়ানো একটা শহর। যেই শহরের মূল চালিকা শক্তি বাষ্প বা স্টিম। পুরো শহরে ছেঁয়ে আছে নানাপ্রকার স্টিম ইঞ্জিন। তবে মূল ইঞ্জিনটা শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। এছাড়া ডিজেলও ব্যাবহার করা হয়। শহরটা খুব সুন্দর সাজানো গোছানো এক শহরে যেটা পরিচালিত করে মেয়র সায়মন।

যেখানে আকাশে উড়ে বেড়ায় এয়ার ইঞ্জিন। রাস্তায় চলে নান্দনিক আকৃতির যানবাহন “সরাস” যেগুলো বিভিন্ন প্রজাতির ডায়নোসর এর আকারে তৈরি। শহরটা ঘিরে অনেক রহস্য বিদ্যমান। শহরের সবখানে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও শহরের বাসিন্দাদের এর বাইরে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সবার থেকে কিছু একটা আড়াল করে চলছে যেন মেয়র। এই রহস্য উদ্ঘাটনে নেমে পড়ে চারজন তরুণ। দলনেতা তন্ময়ের নেতৃত্বে চারজনের একটা দল গঠন করে “স্টিম বিগ্রেড”। তাদের সাথে আরও যুক্ত হলো ভাসমান এয়ার ক্যাফে ” ক্যাফে ফার-ইন” এর মালিক দুই ভাইবোন তাজিন ও ফারিন। স্টিম বিগ্রেড কি পারবে সব রহস্য উন্মোচন করত

বইটা নিয়ে প্রথম থেকেই আগ্রহ ছিলো ভীষণ। সাইন্স ফিকশন নিয়ে আমার আগ্রহ এমনিতেই বেশি। তার ওপর বাংলাদেশের প্রথম স্টিমপাংক উপন্যাস। আগ্রহ থাকায় স্বাভাবিক। আগ্রহের সহিত বইটা শুরু করলাম। পাঠককে ধরে রাখার মতো লেখনী। যদিও আমি একবসায় শেষ করতে পারিনি। তবে সেটা লেখকের দায় না। আমার নিজেরই সময় হয়নি। নইলে একবসায় শেষ করার মতো বই। মনোযোগ চ্যুত হওয়ার মতো কিছু কারণ আছে অবশ্য। সেগুলো রিভিয়ের শেষের দিকে আছে।

বইটা নিয়ে আমার এক্সপেকটেশন পূরণ হয়েছে। বরং একটু বেশিই পেয়েছি। প্রথম থেকেই একটা রহস্য বিদ্যমান ছিলো। প্রথম অধ্যায় “বিভ্রান্তি”তে নিজেই বিভ্রান্ত ছিলাম। ঘটনাপ্রবাহ খুব সহজ ছিলো। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পের প্রবাহ সুন্দর করে চলেছে।

সহজ সরল বর্ণনা দিয়ে পাঠকের সামনে উপন্যাস ও জনরাটা ভালো করে তুলে ধরা ও উপস্থাপনে লেখক স্বার্থক। স্টিমপাংক নিয়ে সামান্য ধারণার কোনো ব্যাক্তির ক্ষেত্রেও বুঝতে কোনো অসুবিধা হবে না। ধারণা না থাকলেও সমস্যা হবে না আশাকরি।

সাইন্স ফিকশনে যন্ত্রপাতি, বিভিন্ন ঘটনা এগুলোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বেশ সাবলীল ভাবেই দিয়েছেন লেখক। এটা ভালো লেগেছে। সবশেষে বলা যায়, বইটা একটা অসাধারণ বই। এরকম কাজ বাংলাদেশে এই প্রথম। এবং প্রথম হিসেবে খুবই ভালো করেছেন লেখক। তাই দেরি না করে বইটি পড়ে ফেলুন। না হলে ভালো একটা জিনিস মিস হয়ে যাবে!

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.