উপন্যাস

দুর্গেশনন্দিনী PDF Download বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

“দুর্গেশনন্দিনী “উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক উপন্যাস। এর আগে “আলালের ঘরের দুলাল” উপন্যাসটি প্যারীচাঁদ মিত্রের লেখা ছিল প্রথম তবে উপন্যাসের লেখনীর দিক থেকে এটির মান ততটা উন্নত ছিল না। পরে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস টি লিখেছেন।

দুর্গেশনন্দিনী বুক রিভিউ

ধারণা করা হয় যে মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে বঙ্কিমচন্দ্র তার প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের সার্থক উপন্যাস টি লিখেন। আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাস টি অনেকদিন থেকে উপন্যাসের গুনগুলো,ধারণ করতে পারেনি। যদিও সেটি প্রথম লেখা তবে দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাস হিসেবে তার যোগ্যতা ও গুণাবলি ধারণ করেছে।

বঙ্কিমচন্দ্র উপন্যাসটি ইতিহাস আর সাহিত্য মিলেমিশে একাকার করে উপন্যাসটি রচনা করেছেন। তবে এর সাহিত্যিক শিল্পগুনই আসল কেননা তিনি গল্পের কাহিনী রক্ষার্থে ইতিহাস কে অবলম্বন করেছেন, তিনি যে পুরোপুরি ইতিহাসই লিখেেছেন এমন নয় তার চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি ইতিহাস থেকে গল্পের পাত্র পাত্রী নির্বাচন করেছেন।

দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের সারাংশ

মোঘল, পাঠান বা বাংলার রাজা-রানিরা হলেও তার উপন্যাসের চরিত্র। যেমন মান সিংহের পুত্র জগৎসিংহ, বীরেদ্রসিংহের কন্যা তিলোত্তমা, বিমলা, আয়সা, ওসমান খাঁ ইত্যাদি গল্পের প্রধান চরিত্রসমূহ।

গল্পের শুরুতেই অম্বররাজ রাজা মানসিংহ তার পুত্র জগৎ সিংহকে মান্দারন আক্রমণ করার জন্য পাঠায়। পথিমধ্যে ঝড়ের কবলে পড়লে সে মান্দারনের এক শিব মন্দিরে আশ্রয় লাভ করে। সেখানে তার সাথে রাজকন্যা তিলোত্তমা ও তিলোত্তমার বিমাতা বিমলার সাথে দেখা হয়।

জগৎসিংহ তিলোত্তমাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়, তিলোত্তমাও প্রেমে পড়ে যায় জগৎ সিংহের। এখানে ইতিহাস থেকে কিছু কথা বিবৃত করা হয় যে পাঠান রাজা গণ মোঘলদের সাথে হাত মেলানোর কারণে অন্য রাজা গণ খুবই রাগান্বিত হয়।

দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের সংক্ষিপ্ত কাহিনী

জগৎসিংহ যেখানেই যাক সে তিলোত্তমাকে কিছুতেই ভুলতে পারেনা। এরি মধ্যে পাঠান সেনাপতি ওসমান খাঁ মান্দার দুর্গ দখল করে নেয়। ওসমান খাঁ বন্দি করে নেয় বীরেদ্রসিংহ, বিমাতা বিমলা ও তিলোত্তমা কে। কতলু খাঁ পরে বিরেদ্রসিংহ কে হত্যা করে। এরি মধ্যে জগৎসিংহ যুদ্ধে আহত হয়ে আশ্রয় নেন মোঘল রাজ কুমারী আয়েশার কাছে। জগৎসিংহের প্রতি গভীর প্রণয়াসক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু জগৎসিংহ ফিরেও তাকায় না আয়েশার প্রতি তার সমস্ত মন জুড়ে কেবল তিলোত্তমা।

পরবর্তীতে আয়েশা তিলোত্তমার প্রতি জগৎসিংহের ভালবাসার কথা জানতে পারে। ওদিকে সেনাপতি ওসমান খাঁ তিলোত্তমাকে ভালবাসে কিন্তু তিলোত্তমা যে জগৎ সিংহকে ভালবাসে এটা জানার পর জগৎসিংহের প্রতি প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে জগৎ সিংহের সাথে সে যুদ্ধে লিপ্ত হয়।

দুর্গেশনন্দিনী বিষয়বস্তু

উপন্যাসটিতে কেবল সামান্য কাহিনী রক্ষার্থে ইতিহাস ব্যবহার করলেও মুলত এটি ত্রিকোণ প্রেমের গল্প বলা যায়। আয়েশাকে ভালবাসে ওসমান খাঁ, ওদিকে আয়েশা জগৎসিংহকে আবার জগৎসিংহ ভালবাসে তিলোত্তমা কে। উপন্যাসটিতে আয়েশা এক মহীয়সী নারী চরিত্র, তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে উপন্যাসটিতে বাড়তি আবহ সৃষ্টি করে।

তার অপরিসীম ধৈয্য, সহনশীলতা সত্যি প্রশংসনীয়। তার চেষ্টায় একসময় মিলিত হয় জগৎ সিংহ ও তিলোত্তমা। এছাড়াও ওসমান খাঁ, কতলু খাঁ এরা সবাই সহনশীলতার প্রতীক। বিমাতা বিমলা এক নিগৃহীত ও বঞ্চিত নারীর প্রতীক। সে তার সর্বস্ব দান করে বীরেদ্রসিংসের জন্য, তিলোত্তমাকে বাঁচানোর জন্য তার সংগ্রাম, নিজের জীবনকে মৃত্যু মুখে পতিত করা সব কিছু মিলিয়ে বিমাতা বিমলা যেন এক চিরকালের নিগৃহীত নারী।

দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাস PDF

একসময় মান্দারণ পুনরায় বিজয় প্রাপ্ত হয়।দিল্লিশ্বরের প্রদান সেনাপতি অম্বররাজ মানসিংহের মাধ্যমে বিমাতা বিমলার কাছে রাজ্যাধিকার ফিরিয়ে দেন। জগৎ সিংহের সাথে মিলিত হয় তিলোত্তমার। বেচারি আয়েশা বরণ করে নেয় চির বিরহ। সুতরাং, এক অমর প্রেম কাহিনির উপাখ্যান এই দুর্গেশনন্দিনী।

তবে দুর্গেশনন্দিনী তিলোত্তমার চেয়ে আয়েশা চরিত্রটিকে বেশি তাৎপর্য পূর্ণ মনে হবে পাঠকের কাছে। জগৎসিংহ ও ওসমান খাঁ এর সৌর্য বীরত্বে মুগ্ধ হবে পাঠক। প্রথম উপন্যাস হিসেবে বঙ্কিম চন্দ্র যে গুনের পরিচয় দিয়েছেন তা সত্যি বাংলা সাহিত্যের বিরল এক সৃষ্টি। এক ভাষাগত জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারলেই সাহিত্য প্রেমীদের জন্য এই উপন্যাসটি সত্যি অতুলনীয়।

দুর্গেশনন্দিনী শব্দের অর্থ কী

দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের উক্তি

কপালকুণ্ডলা উপন্যাস pdf

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.