থ্রিলার

হোম বিফোর ডার্ক PDF Download রাইলি স্যাগার

রাইলি স্যাগার নামের এই সনামধন্য লেখিকা বাংলাদেশে পরিচিতি পেয়েছে তাঁর একটা ডার্ক থ্রিলার ‘হোম বিফোর ডার্ক’ বইটার মাধ্যমে। বইটা অনুবাদ করেছেন আরেক প্রসংশনীয় অনুবাদক ইশরাক অর্নব। অনুবাদ বইয়ের ক্ষেত্রে এই অনুবাদ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। এবং এই অনুবাদ খুব ভালোই হয়েছে। যা হোক, বইটা যারা এখনো কিনে পড়তে পারেন নি তারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে বইটির পিডিএফ পড়ে ফেলতে পারেন।

কাহিনী সংক্ষেপ

ভারমন্ট উডস এলাকায় ভিক্টোরিয়ান ধাঁচের বাড়ি ‘ব্যানবেরি হল’। যার ইতিহাসের বেশিরভাগই কালো অধ্যায়ে ছেঁয়ে আছে। পঁচিশ বছর আগে ম্যাগি হল্টের বয়স সবেমাত্র যখন পাঁচ বছর, তখন তার বাবা-মা অনেকটা অপ্রত্যাশিত সল্প মূল্যেই পেয়ে যায় বিশালাকৃতির এই বাড়িটি। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে তিন সপ্তাহের মাঝেই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয় তাদের তিনজনকে।

কি ঘটেছিলো ঠিক সেসময় তাদের সাথে, যার উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ম্যাগি হল্টের বাবা ইউয়ান হল্ট “হাউজ অব হরর” নামক একটি ভৌতিক নন ফিকশন বই লিখে ফেলেন। বইটি ক্রমশই জনপ্রিয়তা লাভ করে, আর ইউয়ান হল্টের পরিবারের ও সুদিন নেমে আসে সেই সাথে। কিন্তু ঠিক কতটা সুদিন আচ্ছন্ন করতে পেরেছিলো ম্যাগি হল্টকে?

ব্যানবেরি হলে থাকাকালীন কোন স্মৃতিই ম্যাগি হল্টের এই মুহূর্তে মনে নেই, কিন্তু বইটির জন্য তাকে বেশ কঠিন সময় পাড় করতে হয়েছে এতদিন। বর্তমানে উত্তরাধিকার সূত্রে এই বাড়িটির মালিকানা ম্যাগির দখলে, তাই বাড়িটি সংস্কার করে বিক্রির উদ্দেশ্যে আবারও ফিরে যায় সেখানে। তবে আসলেই কি ব্যানবেরি হলে ফেরার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো কেবল সংস্কার করা? নাকি খুঁজে না পাওয়া অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর খোঁজার শেষ একটা প্রচেষ্টা তার গভীরে লুকিয়ে আছে?

কিন্তু ওদিকে ব্যানবেরি হলে ফেরার পরই সে সম্মুখীন হয় নানান অপ্রত্যাশিত ঘটনার। তার বাবার বইতে বর্ণিত ভৌতিক ঘটনাগুলো যেন ক্রমশই পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে তার সাথে। তার অবিশ্বাসী সত্তাও এক সময় নিজেকে প্রশ্ন করা শুরু করে এসবকিছুর ব্যাখ্যা কি? তবে কি বাবার বইয়ে সমস্ত বিবরণগুলো সত্যিই ঘটেছিলো? ব্যানবেরি হল কি সত্যিই অভিশপ্ত, নাকি অস্বাভাবিক কোন খেলা চলছে ম্যাগির মনস্তত্ত্ব জুড়ে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে এই বইয়ের মধ্যে। অসাধারণ কিছুর অপেক্ষা করছে আপনার জন্য!

এক কথায় দুর্দান্ত একটি বই, অনেকদিন পর বেশ ভিন্ন ধাঁচের কোন সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গোগ্রাসে গিললাম। কিছুটা ডার্কনেসও আছে। মূলত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার যার প্রতিটা অধ্যায়ই ছিলো রহস্য, সাসপেন্সে ভরপুর। লেখক খুব নিপুণভাবেই পুরোটা সময় জুড়ে কাহিনীর সাসপেন্স ধরে রাখতে পেরেছেন।

অনেকটা ‘বইয়ের ভেতর বই’ এই নীতি ধরেই গল্প এগিয়ে গিয়ে অবশেষে ক্লাইমেক্সের দিকে ধাবিত হয়। যে বিষয়টি না বললেই নয়, লেখক খুব সুন্দরভাবেই পাঠকদের জন্য ভুল একটি ফাঁদ পেতে রেখেছিলেন, এবং পাঠকরাও তার ফাঁদে পা দিতে বাধ্য হয়। এরপরই একেরপর এক টার্ন ও টুইস্টের তোপে চোখ কপালে উঠে যাওয়ার মতো অবস্থা- এ যেন পুরোই সাইকোলজিক্যাল টর্চার!
যা কল্পনার বাইরে!

এই দিক দিয়ে লেখক বেশ খেল দেখিয়েছেন। বইটিতে বেশ ভালোভাবেই এক হরর আবহ তৈরী করা হয়েছে, এক সময় এর পেছনে থাকা প্রকৃত সত্যও উদঘাটিত হবে, কিন্তু বই শেষ করেও একটি প্রশ্ন মাঝে মাঝেই উঁকি দিতে চাইবে মনের ভেতর, ‘হাউজ অব হরর কি সত্যিই হরর?’ কেন? সেটি জানত্র হলে পুরো বইটি একটা রোলারকোস্টার রাইডে উঠে শেষ করতে হবে।

অনুবাদক ইশরাক অর্ণব ভাইয়ের অনুবাদ ও ছিলো দুর্দান্ত ও অতুলনীয়। সব মিলিয়ে মাস্টরিড একটা বই। বিশেষ করে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের সাথে সাথে যারা হরর আবহে মিস্ট্রি পছন্দ করেন তারা আশা করি বেশ দারুণ একটি ভ্রমণের মধ্য দিয়েই যাবেন। সবশেষে একটাই কথা, অন্ধকার আর সাইকোলজির অদ্ভুত বিষয়াদির মধ্যে ডুবতে বইটি আপনার জন্য!

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.