উপন্যাস

ইনফার্নো PDF Download ড্যান ব্রাউন

মার্কিন ঔপন্যাসিক ড্যান ব্রাউন রচিত একটি রোমাঞ্চ উপন্যাস হচ্ছে ইনফার্নো। রবার্ট ল্যাংডনকে নিয়ে লেখা লেখকের এটি চতুর্থ বই। বইটির প্রথম প্রকাশকাল ১৪মে,২০১৩ সাল। রবার্ট ল্যাংডন সিরিজের অন্যান্য বইয়ের মত এটিও ডাবলডে প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। উপন্যাসটিতে দান্ত আলিগিয়েরির বিখ্যাত মহাকাব্য দ্যা ডিভাইন কমেডির ইনফার্নোর ছাপ বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় এবং উপন্যাসটির পটভূমি এর উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে।

উপন্যাসটিকে কেন্দ্র করে পরে ২০১৬ সালে একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। উপন্যাসটির পটভূমি রচিত হয়েছে ইটালির ফ্লোরেন্স শহরে।অন্যান্য রবার্ট ল্যাংডন এর উপন্যাসের মতই এই উপন্যাসেও রয়েছে সংকেত, চিহ্ন, রহস্যের ছড়াছড়ি। তবে এই উপন্যাসে আগের উপন্যাসগুলোর মত কোন প্রাচীন গুপ্ত সংস্থা নেই।

ইনফার্নো রিভিউ

তবে বাস্তব জীবনের অনেক সংস্থা যেমন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কথা উল্লেখ রয়েছে। বইটির দৈর্ঘ্য বেশ বড়ই বলা চলে কিন্তু পাঠক পড়তে শুরু করলে সেটা আর খুব বড় মনে হয় না। বইটি খুললেই প্রথমে একটি লাইন লক্ষ্যণীয় তা হলঃ “The darkest places in hell are reserved for those who maintain their neutrality in times of moral crisis.” এই প্রথম লাইনটি পড়ার পরই যেন বইটি পড়ার ইচ্ছা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

উপন্যাসটির শুরু হয় এভাবে, হঠাৎই ইতালির ফ্লোরেন্সে এক হাসপাতালের বিছানায় নিজেকে আবিস্কার করেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিম্বলিজম এর অধ্যাপক রবার্ট ল্যাংডন। “এ্যামনেশিয়া” নামক রোগের দরুন ছোট ছোত স্মৃতির টুকরো অংশ ছাড়া আর কিছুই মনে করতে পারেন না। সেখানেই রবার্ট এর পরিচয় হয় একজন সুন্দরী ডাক্তারের সাথে যার নাম হলো সিয়েনা ব্রুকস। তারপর হাসপাতালের একজন ডাক্তার যার নাম ছিল মাক্রনি, তাকে হত্যা করে এক নারী গুপ্ত ঘাতক ভায়েন্থা।

এমন পরিস্থিতিতে রবার্টকে হাসপাতাল থেকে পালাতে সাহায্য করে সিয়েনা এবং তারা আশ্রয় গ্রহণ করে সিয়েনার অ্যাপার্টমেন্টে। ভায়েন্থা যে হাসপাতালে রবার্টকে খুঁজতে এসেছিল তাতে কোন সন্দেহ নেই। হঠাৎ ল্যাংডন নিজের জ্যাকেটের ভিতর আবিষ্কার করে একটি সিলিন্ডার যাতে আবার বিপদজনক জৈব রাসায়নিকের প্রতীক আঁকা রয়েছে।

সিলিন্ডারটি বেশ ভারী এবং লম্বায় প্রায় ছয় ইঞ্চি। অল্প কিছুক্ষণ সিলিন্ডারটি নাড়াচাড়া করার পরই তারা বুঝতে পারে সিলিন্ডারটির ভেতরে কিছু রয়েছে, অল্প চেষ্টার পরেই তারা সিলিন্ডারটির ভেতর থেকে একটি প্রজেক্টর বের করতে সমর্থ্য হয়। প্রজেক্টরটির মধ্যে ছিল ইতালির রেনেসাঁস যুগের চিত্রশিল্পী সান্দ্রো বত্তিচেলির আঁকা নরকের মানচিত্র যা দান্তের ইনফার্নোর উপর ভিত্তি করে শিল্পী এঁকেছিলেন।

তবে চিত্রকর্মটি কেউ সতর্কতার সাথে পরিবর্তন করে তাতে কিছু অক্ষর ও প্রতীক ঢুকিয়ে দিয়েছে। ল্যাংডন এসবের কোন কিছুতেই অংশ নিতে চায় না। সে চায় তার দেশে ফিরতে। তাই সে আমেরিকান দূতাবাসের কাছে সাহায্য চায় দেশে ফেরত যাওয়ার জন্য। কিন্তু দূতাবাসে ফোন করে তাদের যে অবস্থানের কথা বলেছিল, সেই স্থানে তারা দেখতে পায় ভায়েন্থা এসে তাদের খুঁজছে। তারা বুঝতে পারে আমেরিকান দূতাবাসের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া সম্ভব নয়।

তারপর শুরু হয় রবার্ট এর জীবন বাজি রেখে ফ্লোরেন্সের রাস্তায় ঘুরে ঘিরে রহস্য সমাধানের চেষ্টা আর তাতে সংগী হয় ডাক্তার সিয়েনা। এর মাঝেই তাদের আবার খুঁজতে শুরু করে ফ্লোরেন্সের ক্যারিবিনিয়ারি বাহিনী। এই রোমাঞ্চকর অভিযানে উপন্যাসের গল্পে ফুটে ওঠে ফ্লোরেন্সের ঐতিহাসিক সকল স্থাপত্যকলার নিদর্শনগুলো।

ইনফার্নো PDF

এভাবেই উপন্যাসটির গল্প গড়ে উঠতে থাকে এবং একসময়ে জানতে পারে রবার্ট এর অভিযান এক বৈজ্ঞানিক এর বিরুদ্ধে। বৈজ্ঞানিকের বিরুদ্ধে কেন তা জানতে হলে পাঠককে পড়তে হবে উপন্যাসটি। রবার্ট ল্যাংডন সিরিজের অন্যান্য উপন্যাসের মত এটিও শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনায় পরিপূর্ণ। উপন্যাসটি একবার পড়তে শুরু করলে শেষ না করে উঠতে ইচ্ছা করে না। উপন্যাসটি যেকোনো রোমাঞ্চ প্রিয় পাঠককে তৃপ্তি দিতে সক্ষম তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.