মুক্তিযুদ্ধ

কারাগারের রোজনামচা PDF Download বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

“কারাগারের রোজনামচা” বইটির লেখক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ২০১৭ সালের মার্চ মাস বইটির প্রথম প্রকাশকাল এবং প্রকাশিত হয় বাংলা একাডেমি কর্তৃক। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন তারিক সুজাত। বইটির নামকরণ করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা।

১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাত্র সাত মাসের মাথায় ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ততার জন্য জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি অংশ কাটাতে হয় কারাগারে, যখনই তিনি বাঙালীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কিছু বলেছেন; প্রত্যেকবার মিথ্যা মামলায় তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে।

১৯৬৬ সালের প্রথম তিন মাসেই বঙ্গবন্ধু মোট আটবার গ্রেফতার হয়ে জামিন পান। ছয় দফা উত্থাপনের ফল-স্বরূপ সে বছরেই ৮ই মার্চ তিনি আবার গ্রেফতার হন। “কারাগারের রোজনামচা” তাঁর জীবনের এই কালো অধ্যায়েরই দিনলিপি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বইটির ভূমিকায় লিখেছেন, “বাংলার মানুষ যে স্বাধীন হবে, এ আত্মবিশ্বাস বারবার তাঁর (বঙ্গবন্ধু) লেখায় ফুটে উঠেছে। এত আত্মপ্রত্যয় নিয়ে পৃথিবীর আর কোন নেতা ভবিষ্যদ্বানী করতে পেরেছেন কিনা আমি জানি না।”

বইটির ভূমিকার শেষ অংশে বঙ্গবন্ধু কন্যা আরো উল্লেখ করেছেন, “আমার মায়ের প্রেরনা ও অনুরোধে আব্বা লিখতে শুরু করেন। যতবার জেলে গেছেন আমার মা খাতা কিনে জেলে পৌঁছে দিতেন।

আবার যখন মুক্তি পেতেন তখন খাতাগুলি সংগ্রহ করে নিজে সযত্নে রেখে দিতেন। তাঁর (শেখ ফজিলাতুন্নেছা) এই দূরদর্শী চিন্তা যদি না থাকতো তাহলে এই মূল্যবান লেখা আমতা জাতির কাছে তুলে দিতে পারতাম না।”

বঙ্গবন্ধু যে লেখক হিসেবে একজন চমৎকার ব্যক্তিত্ব তা বইটির প্রথম অংশ বিশেষ থেকেই লক্ষ্যণীয়। বইটির মূল প্রসঙ্গে প্রবেশের পূর্বেই “থালা-বাটি কম্বল, জেলখানার সম্বল” শীর্ষক অংশে তিনি জেলখানার বিভিন্ন রীতি-নীতি, নিয়ম-কানুন, সহজ-সরল প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যক্ত করেছেন, অনেক সাধারণ পাঠকের এসব বিষয় না জানাটাই স্বাভাবিক।

এই অংশে বঙ্গবন্ধু জেলের ভিতরের বিবরণ, কয়েদিদের দায়িত্বের বিবরণ ও বিভিন্ন দফা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কারাগারের খাবার ব্যবস্থা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কেও সবিস্তারে আলোকপাত করা হয়েছে এই অংশে।
বইটির মূল অংশের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে পাঠকের চোখে ফুটে উঠবে বঙ্গবন্ধুর মানবিক বৃত্তির দিকগুলো।

কখন কাকে কারাগারে আনা হলো, কারাগারে কোনো কয়েদীর কোন ধরনের সমস্যা হচ্ছে কিনা এসব বিষয়ে তিনি ছিলেন খুবই সচেষ্ট। নেতা কর্মীদের তিনি খোঁজ খবর নিতেন নিজের হাজার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও। নিজে অসুস্থতায় ভোগার সময়ও, অন্যের কোনো ধরনের অসুবিধা আছে কিনা সেই বিষয়ে লক্ষ্য করেছেন সবার আগে।

কারাগারে কোনো ধরনের অন্যায় দেখলে তিনি প্রতিবাদ করেছেন বজ্র কন্ঠে। নিজের খাবারের কষ্ট, ঘুমের কষ্ট, শারীরিক অসুস্থতা, পারিবারিক চিন্তা সব কিছুকে পাশ কাটিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কারাগারের সবার আশ্রয়স্থল, বটবৃক্ষস্বরূপ।

এ গ্রন্থের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বঙ্গবন্ধুর দেশ এবং দেশের মানুষকে নিয়ে চিন্তা, যা পাঠককে দেশপ্রেমের মহীমা বুঝতে সাহায্য করবে। “ত্যাগের মাধ্যমেই আদর্শের জয় হয়।”- এ নীতিতেই বঙ্গবন্ধু বিশ্বাসী ছিলেন। তাই তিনি কখনোই আন্দোলনের ক্ষেত্রে হিংসাত্মক কার্যক্রম গ্রহণ না করে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে সোচ্চার ছিলেন।

বইটি পড়তে গিয়ে পাঠক হিসেবে কিছুক্ষণ পরপরই শিউরে উঠতে হয় পাকিস্তানীদের অত্যাচার আর অবিচারের দৃশ্য কল্পনা করলে। বইটির একটি অংশে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, “আমার অবস্থা হয়েছে, পর্দানসিন জানানার মত কেউ আমাকে দেখতেও পারবে না।

আমিও কাউকে দেখতে পারবো না। কেউ কথাও বলতে পারবে না, আমিও পারবো না।” অর্থাৎ, তাঁকে যে বিনা দোষেই “Solitary Confinement”- এ রাখা হয়েছিল এর থেকে আমরা তাই বুঝতে পারি।

বঙ্গবন্ধুর মা সায়েরা খাতুন খুলনা থেকে ছেলেকে ফোনে বলেছিলেন: ” তুই আমাকে দেখতে আয়, আমি আর বেশিদিন বাঁচবো না।” বঙ্গবন্ধু সেই আকুল আবেদনে সারা দিতে পারেননি।

এরকম অনেক হৃদয় বিদারক ঘটনার বর্ণনা বইটিতে রয়েছে। তাঁর পরিবারকে অনেক আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়েও যেতে হয়েছে এসময়। কিন্তু এই সংকটের মধ্যেও যে তিনি দেশের ও দেশের মানুষের কথা ভেবেছেন তা তার লেখনীতে স্পষ্ট।

বঙ্গবন্ধু যে একজন রুচিশীল রসবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন তার পরিচয় ও বইটিতে পাওয়া যায়। কেননা, তিনি এত অত্যাচার সহ্য করেও পাকিস্তানি শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মানহানিকর কটু কথা বলেননি, তাদের ব্যাঙ্গাত্মক ও গঠনমূলক সমালোচনা করেছেন।

কারাগারের রোজনামচা PDF Download

সত্যি বলতে, “কারাগারের রোজনামচা” এই অল্প কথায় বলে বিশ্লেষণ করা দুরহ একটি বিষয়। বঙ্গবন্ধু এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করেছেন এবং বাঙালী হিসেবে আমাদের যে উচিত সেই বিষয়গুলির আমাদের চিন্তায় প্রতিফলন ঘটানো অত্যাবশক তা বলাই বাহুল্য।

বইটিতে যে শুধু সমসাময়িক কালের কারাগারের চিত্রই ফুটে উঠেছে তা নয়। আরও ফুটে উঠেছে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পাকিস্তান সরকারের একনায়কোচিত মনোভাব ও অত্যাচার-নির্যাতনের বিভিন্ন চিত্র।

কারাগারের রোজনামচা PDF

বইটি শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের একটি অংশের প্রতিফলন নয় বরং বাংলাদেশ ও বাঙালির ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি তা বলার কোন অপেক্ষাই রাখে না।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.