ছোট গল্প

কাঠের শরীর PDF Download কিঙ্কর আহসান

‘কাঠের শরীর’ গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন ‘কিঙ্কর আহসান’। সমসাময়িক সময়ে বাংলাদেশের সাহিত্য জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন কিঙ্কর আহসান। মূলত সকলে তাকে ঔপন্যাসিক হিসেবে চিনলেও, শুধুমাত্র উপন্যাস নয় ছোট গল্পের সংকলন থেকে শুরু করে সাহিত্য জগতের আরও বিভিন্ন শাখায় এই সাহিত্যিকের রয়েছে অবাধ বিচরণ।

সহজ-সরল, প্রাঞ্জল ভাষায় গল্পের উপস্থাপন, সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা সব কিছু মিলিয়ে অনবদ্য লেখনীর কায়দা রয়েছে কিঙ্কর আহসানের। মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক, মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো যেভাবে লেখকের লেখায় ধরা পরে তা অকল্পনীয়। তাই তো অতি অল্প সময়ে পাঠকদের মনে নিজের স্থায়ী জাগয়া করে নিতে পেরেছেন লেখক। কাঠের শরীর গল্প সংকলনটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৪ সালে এবং প্রকাশনী সংস্থা হলো ‘জাগৃতি প্রকাশণী’।

এই গল্প সংকলনটিতে স্থান পেয়েছে মোট দশটি ছোট গল্প। একেকটি গল্পের ধাঁচ আবার অন্য সকল গল্প থেকে সম্পূর্ণ রূপে ভিন্ন। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮০। তাই একবার বসেই বইটি অনায়াসে শেষ করা যায়। প্রত্যেকটি গল্পতেই রয়েছে মানুষের জীবনের ছোঁয়া। প্রত্যেকটি গল্পই যেন জীবন্ত। প্রথম গল্পটি অসাধারণ যেকোন পাঠককে বিমোহিত করতে বাধ্য।

জীবন যে মাঝে মাঝে খুব বেশি রকমের প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে পারে তাই প্রকাশ পেয়েছে এই গল্পে। এই গল্পটির নাম হলো ‘ জীবন-চিত্রনাট্য-খসড়া’। দ্বিতীয় গল্পটির শিরোনাম হলো ‘ছায়ালোকে মায়া’। সাধারণ একটি গল্প। কিন্তু লেখকের ব্যক্ত করার ধরণ অসাধারণ।

লেখকের জৌলুস থাকলে তিনি একটি সাধারণ গল্পকেও যে অসাধারণভাবে প্রকাশ করতে পারেন তা এই গল্প থেকেই বোঝা যায়। তৃতীয় গল্পটির শিরোনাম হলো ‘তপোভঙ্গ’। এই গল্পটিও বেশ সুন্দর, গভীরতা আছে গল্পটিতে। তার পরের গল্পটি হলো ‘উপাসনা’। নামের সাথে গল্পের মিল নেই প্রথমে মনে হলেও হঠাৎ করেই যেন মনে হয় যে অনেকটাই মিল আছে।

সকলের উপসনার ধরণ ও উপাসনার বস্তু এক হয় না এই গল্পটি থেকে সেটি স্পষ্ট বোঝা যায়। এরপরে রয়েছে ‘কাঁচা ধানের কবর’ নামের মতো গল্পটিও অন্যরকম। তারপরের গল্পটি হলো ‘চা;ঘুম’। এরপরে রয়েছে ‘বাগান বিলাস’ নামক গল্পটি। এই গল্পটি বেশ কষ্টের, পাঠকের হৃদয়ে গেঁথে যাবার মত গল্প। এসব গল্পের রেশ পড়ার পর বেশ কিছু সময় রয়ে যায়।

এরপরে রয়েছে ‘পাতকী’ গল্পটি। এ গল্পটি একেকজন পাঠকের কাছে একেক রকম লাগার কথা তাই এটি নিয়ে কোন কিছু না বলি। এরপরের ‘মোহর’ গল্পটি বেশ ভালো। আর শেষের গল্পটি হলো ‘কাঠের শরীর’। এই গল্পটি নিতান্তই আমাদের সকলের জীবনের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

মানুষের জীবনের শেষভাগে অনেকেই তাদের প্রিয়জনগুলোকে বা কাছের মানুষগুলোকে পাশে পায় না। এ এক অবর্ণনীয় কষ্ট। তবে লেখক খুব ভালোভাবেই এই কষ্টগুলোকে উপস্থাপন করতে পেরেছেন।

পরিশেষে এটা নিসংকোচে বলা যায়, বইটি পড়ে যে কোন পাঠকের ভালো লাগবে। বইটি শেষ করার পরের অনূভুতি ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *