উপন্যাস

খুনে অরণ্য PDF Download মারুফ হোসেন

‘মারুফ হোসেন’। যারা অনুবাদ সাহিত্যের সাথে পরিচিত তাদের এই নামটাও পরিচিত হওয়ার কথা। অবশ্য মারুফ হোসেন একজন আন্ডাররেটেড লেখক এবং অনুবাদক। যারা তার অনুবাদ পড়েছেন তারাই প্রশংসা করেছেন। অনুবাদ ছাড়াও একটা এডাপটেশন আছে তার। টুইস্ট মাস্টার হারলান কোবেনের ‘দ্য উডস’ অবলম্বনে দেশীয় প্লটে ‘খুনে অরণ্য’ নামে একটা এডাপটেশন করেছিলেন। এবং যথেষ্ট সুনামও অর্জন করেছেন। অসাধারণ তো বটেই। সেই বইটা এখনো যারা পড়েন নি তারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে বইটির পিডিএফ পড়ে ফেলতে পারেন।

কাহিনী সংক্ষেপ

আহমেদ মুনতাসির তপু দেশের একজন নাম করা আইনজীবী। বয়স এই আটত্রিশ এর মত। বিপত্নীক। অর্থাৎ স্ত্রী মারা গেছে। কর্মজীবনে চুড়ান্ত সফল এ আইনজীবী বলা যায়। একমাত্র মেয়ে জাহরাকে নিয়ে সুখেই ছিল। বাধ সাধলো মিরপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় পড়ে থাকা একটা লাশ।

ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে জানা গেলো লোকটার নাম ফারুক মৃধা। যার পকেটে পাওয়া গেছে তপু সাহেবের ঠিকানা। ব্যাস, এটুকুই। আর কোন তথ্য নাই। লাশ শনাক্ত করতে গিয়ে তপুর মাথায় হাত! এ তো রাহাতের লাশ! যে খুন হয়েছে উনিশ বছর আগে।

উনিশ বছর আগে রাহাত একা মারা যায়নি। সাথে ছিল তপুর জমজ বোন রাত্রি এবং আরও দুজন। ১৯৯৮ সালে গাজীপুরের এক রিসোর্টে বেড়াতে গেছিলো তপুর ইউনিভার্সিটির কিছু বন্ধুবান্ধব। তপু তখন পড়াশোনার পাশাপাশি সেই রিসোর্টে একটা পার্টটাইম চাকরি করে। আর রিসোর্ট মালিকের মেয়ে অদিতির সাথে অল্পবিস্তর প্রেম করে।

যাইহোক, ঘটনার দিন গভীর রাতে অ্যাডভেঞ্চার কিংবা অভিসারের নেশায় দুটি কাপল ঢোকে জঙ্গলে। রাত্রি, রায়হান, অনিমা এবং রাহাত। অতি রহস্যজনকভাবে তারা খুন হয়ে যায়। জবাই করে মাটি চাপা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। দু’জনের লাশ অবশ্য তখন পাওয়া যায়নি। তবে ধরে নেওয়া হয়েছিল- তারা অবশ্যই মরছে। এতো বড় জঙ্গলে পুঁতে ফেলা লাশ খুঁজে পাওয়া তো একরকম অসম্ভব। এতো বছর পরে, রাহাতের লাশ খুঁজে পেয়ে তপুর মনে আশার সঞ্চার হয় – রাত্রিকেও হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে।

এদিকে কারা যেন তপুর পরিবারের ইতিহাস আর উনিশ বছর আগের সেই রহস্যজনক অতীত নিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে দিছে। বড়সড় বিপদের সম্ভাবনা অাঁচ করতে পারা যাচ্ছে। বর্তমান নিয়ে কিছুটা ধারণা থাকলেও, অতীত নিয়ে তপু এখনো পুরোপুরি অন্ধকারে। আবার এতকাল পরে, অদিতি কেন তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে? পুরান প্রেম জেগে ওঠার রহস্য কি? এতোই যদি প্রেম, তাইলে এতদিন কই ছিলি? রহস্য প্রচন্ডরকম ঘনীভুত হতে থাকে। তাই বলে তপু কি ছেড়ে দেওয়ার বান্দা? মোটেও না। এমনি এমনি তো আর ওকালতিতে এতো নাম করেনি!

এক কথায় যদি ভাব প্রকাশ করি তাহলে বলতে হবে অসাধারণ একটা থ্রিলার। কাহিনীটা এত চমকপ্রদ আর গতিময় যে, শুরু থেকেই যে কোনো পাঠককে একদম মগ্ন করে রাখবে শেষ পর্যন্ত। দেশীয় প্লটে বিদেশি একটা গল্পকে এত সুন্দরভাবে এডাপটেশন করা কিন্তু মুখের কথা নয়। বইয়ের প্লটটা মূলফ সেই খুনে অরণ্য নিয়ে। গজারি বনের এক রাতের রহস্য নিয়ে।

কিন্তু আরও একটা সাবপ্লট আছে, সেটা হলো একটা ধর্ষণের কেস। তপু আইনজীবী হওয়ায় সেই একটু লিগ্যাল থ্রিলারের স্বাদও পেয়েছি। লিখনশৈলী বেশি মুগ্ধ করেছে। একদম সাবলীল। আর এত আস্তে ধীরে লেখক রহস্য উন্মোচন করেছেন কিন্তু তারপরও একটুও বিরক্তি আসেনি। যা হয়েছে তা হলো উদ্বিগ্ন! আর শেষে ছোটখাটো টুইস্ট ছিলই। কিন্তু ছোট হলেও সেটা যথাযথ। মানে বানোয়াট কিছু মনেই হয়নি।

সবশেষে বলবো, বইটা এক কথায় অসাধারণ। এই নিয়ে কোনো কথা নেয়। যারা একটা দুর্দান্ত থ্রিলার পড়তে চান তারা নির্দ্বিধায় হাতে তুলে নিতে পারেন। ভালো লাগবেই।

Show More

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.