উপন্যাস

কহেন কবি কালিদাস PDF Download হুমায়ূন আহমেদ

কহেন কবি কালিদাস “কহেন কবি কালিদাস” উপন্যাসটি নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলি সমগ্রের একটি উপন্যাস । উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলেন সায়রা বানু এবং তাকে ঘিরে যত রহস্য রয়েছে। এবং বরাবরের মত মিসির আলি উপন্যাসের সমস্ত রহস্যময় জটগুলো খুলতে সক্ষম হয়।

সায়রা বানু নামে এক রমণী মিসির আলিকে পাঁচ অধ্যায়ের একটি চিঠি লিখে দিয়ে যায় এবং এটি পড়ার পরে মিসির আলি যেন তার সমস্ত সমস্যার সমাধান করে দেয়। সে নাকি ইবলিশ শয়তান কে দেখেছে এবং তার সাথে কথাও বলেছে। সায়রা বানু হলেন হাবিবুর রহমান নামের একজন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপকের বড় মেয়ে।

হাবিবুর রহমান তাঁর দুই কন্যার নাম রাখেন মিথেন ইথেন। সায়রা বানু বা মিথেন কে নিয়েই মূলত এই উপন্যাসের যত রহস্য। স্ত্রীর মৃত্যুর পর হাবিবুর রহমান অত্যন্ত ধার্মিক হয়ে পড়েন এবং সারাদিন ধর্মকর্মে মনোনিবেশ করে থাকেন। হঠাৎ একদিন তিনি বলেন যে ইবলিশ শয়তানের সাথে কথা বলেছে এবং তাকে দেখেছেন এবং এই ঘটনার পর তার দুই কন্যা এবং তার সাথে কথা বলা শুরু করে।

রহস্য আরো জট পেকে যায় যখন হাবিবুর রহমানের দ্বিতীয় কন্যা বলে যে সে অন্তঃসত্ত্বা এবং তারপরেই সে আত্মহত্যা করে। কিন্তু সে মাত্র দশম শ্রেণীর ছাত্রী এবং অবিবাহিতা। মিথেনের এর মৃত্যুর রহস্য সমাধান করার দায়িত্ব মূলত মিসির আলির ওপর বর্তায় উপন্যাসটিতে। কিন্তু ইথেনের পোস্টমর্টেম এর পর জানা যায় ইথেন মোটেও অন্তঃসত্তা ছিলো না।

উপন্যাসের মূল রহস্য মূলত এখানেই তাছাড়া ইথেন ইবলিশ শয়তানের চেহারার বর্ণনা দেয় তার লেখা চিঠিতে। মিসির আলি মিথেনের কথা গুলো অবিশ্বাস করলেও একেবারে যে বিশ্বাস করেনি তা নয়। কেননা মিসির আলি সব সময় সবকিছুকে যুক্তিতে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন এবং যুক্তিতে ব্যাখ্যা করেন প্রতিটি প্যারানরমাল বিষয়কে।

কেননা শয়তানকে স্বচক্ষে দেখা এবং তার সাথে কথা বলা এটি কোন জীবিত মানুষের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। তাছাড়া ইথেন মারা যাওয়ার আগে তার অনাগত সন্তান এর নামে একটি চিঠি লিখে যায় আর তার নাম রাখে ফরমালডিহাইড। কিন্তু এখানেও রহস্য খুঁজে পাওয়া যায় কেননা ইথেন ছিল মানবিক বিভাগের একজন শিক্ষার্থী।

মিথেন মিসির আলিকে তার লেখা চিঠির পাঁচটি অধ্যায় পড়ে রহস্যের সমাধান করে দিতে বলেছিল কিন্তু মাত্র তিনটি অধ্যায় পড়ার পরেই মিসির আলি রহস্যের সমাধান করে দেয়। ইবলিশ পুরুষ কন্ঠে মূলত কথা বলতো মিথেন নিজেই। উপন্যাসের শেষ পর্যায়ে মিথেনের সমস্ত চালাকি ধরা পড়ে যায়। তার চালাকি ধরতে মিসির আলীকে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি।

বরাবরের মতই প্রচন্ড বুদ্ধিমত্তার অধিকারী মিসির আলি রহস্যের সমাধান করেন। উপন্যাসের নামকরণটি মূলত কবি কালিদাসের একটি কবিতার থেকে বিবৃত কয়েকটি লাইন বলা হয়েছে যা একটি ধাঁধা। কিন্তু উপন্যাসের শেষ পর্যন্ত ধাঁধাটির উত্তর লেখক দিয়ে যাননি।

মিসির আলি সিরিজের অন্যান্য উপন্যাসের মতো “কহেন কবি কালিদাস” উপন্যাসটি রহস্য ও উদ্দীপনায় পরিপূর্ণ । পাঠক হৃদয়কে অবশ্যই অপার্থিব জগতে নিয়ে যাবে এবং এক পর্যায়ে সুন্দর ব্যাখ্যা রয়েছে পাঠকের জন্য। তাই উপন্যাসটি অবশ্য পরণীয় প্রতিটি পাঠক-পাঠিকার জন্য।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.