উপন্যাস

মাতাল হাওয়া PDF Download হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মাতাল হাওয়া উপন্যাসটির পিডিএফ ডাউনলোড লিংক এখানে প্রকাশ করা হয়েছে। আপনি চাইলেই আমাদের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। বই ডাউনলোড এর আগে দেখে নেয়া যাক এ বইটি সম্পর্কে কিছু তথ্য।

মাতাল হাওয়া হুমায়ূন আহমেদ কাহিনী সংক্ষেপ

জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক এর একটি অনন্য সৃষ্টি মাতাল হাওয়া। হুমায়ূন আহমেদ ইতিহাস আশ্রিত পাঁচটি উপন্যাস লিখেছেন তার মধ্যে মাতাল হাওয়া একটি। বইটি অন্যপ্রকাশ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা 232। বইটির মুদ্রিত মূল্য 450 টাকা।

বইটি লিখতে গিয়ে হুমায়ূন আহমেদ তার প্রাককথন এ বলেছেন ৬৯ আমার একটি অতি পছন্দের বছর। আমার লেখালেখি জীবনের শুরু উনসত্তরে । একটি মহান গণ-আন্দোলনের কাছ থেকে দেখা হয় উনসত্তরে। সেই সময়কে ধরতে চেষ্টা করেছি মাতাল হাওয়ায়।

বইটিকে আমরা দুইটি ভাগে ভাগ করতে পারি। একটি ভাগ হাবিব নাদিয়াদের নিয়ে ।

অন্য ভাগ লেখক হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে। লেখক এই উপন্যাসটির একটি চরিত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। গল্পের শুরুতেই লেখা হয়েছে হাজেরা বিবি সকাল থেকেই থেমে থেমে ডাকছেন ,হাবু কইরে! ও হাবু! ও হাবু!…..‌,

গল্পের শুরুর দিকেই ময়মনসিংহ জজ কোর্টের উকিল হাবিবুর রহমানের কাছে হাসান রাজা চৌধুরী তার মামার সাথে আসে একটি মামলা থেকে উদ্ধার সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে।প্রচলিত আছে হাবিবুর রহমান অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল বিষয় সমাধান দিয়ে থাকেন। একসময় নাকি তিনি জজের সামনে এক গ্লাস দুধকে এক গ্লাস সেভেন আপ প্রমাণ করেছিলেন।হাসন রাজা তার মামাকে খুন করে এসেছে বলে তার বাবা তার মুক্তির জন্য হাবিবুর রহমানের কাছে আসে।

হাবিবুর রহমান বিভিন্ন চেষ্টা তদবির করে হাসন রাজা চৌধুরীকে মুক্তির প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকেন। একজন খুনিকে তিনি প্রাণ প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টার পেছনে আরেকটি উদ্দেশ্য থাকে হাবিবুর রহমান চান তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মেয়ের সাথে হাসান রাজা চৌধুরী কে বিয়ে দিতে।

একজন খুনী সাথে নিজের মেয়েকে কেন বিয়ে দিতে চান সে বিষয়ে যথেষ্ট জটিলতা থাকে।এদিকে নাদিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর বিদ্যুৎ কান্তি দের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে থাকে। কিন্তু ধর্ম আলাদা হাওয়াই নাদিয়ার বাবা এই সম্পর্ক মেনে নিতে নারাজ হন।

নাদিয়ার দাদি হাজেরা বেগম প্রাচীন মানসিকতার মানুষ হওয়ার কারণে তিনি নানা রকম খারাপ কথা বলেন। নাদিয়ার দাদি তার বাবাকে বিভিন্ন কটুক্তি করে এবং বিভিন্ন ভাবে তাকে কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু হাবিবুর রহমান তার মায়ের কথায় তেমন একটা কষ্ট পায় না এবং মায়ের কথাগুলো তিনি বিভিন্ন ভাবে সহ্য করে নেন বা হজম করতে থাকেন।গল্প এগিয়ে যেতে থাকে।

হাসান চৌধুরীর বাবা হাসন রাজাকে তার খালাতো বোন রেশমার সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য মত স্থির করেন এবং দিয়েও দেন। কিন্তু যখন শুনেন ময়মনসিংহ হাবিব চৌধুরি তার ছেলেকে তার মেয়ের জন্য পছন্দ করেছেন তখন তিনি রেশমার সাথে বিয়ের সম্পর্কটা ডিভোর্সের মাধ্যমে বাতিল করেন। এদিকে লেখক এর আত্মকথা না লেখক ফুটিয়ে তোলেন ঊনসত্তরের মাতাল হাওয়ার পরিবেশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এনএসএফবির দৌরাত্ম্য এবং রাজনৈতিক পাণ্ডাদের ছোটাছুটি হানাহানি ইত্যাদি বিষয়গুলো লেখক তার কলমের আঁচড়ে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। লেখক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শান্তশিষ্ট এবং মেধাবী ছাত্র হওয়ায় রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা হেনস্তার শিকার এবং তার বইপত্র জ্বালিয়ে দেওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো লিখেন।

ইউনিসেফের পান্ডারা বিভিন্ন মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া আন্দোলন মিটিং-মিছিল ইত্যাদি বিষয়গুলো লেখক এর চোখ এড়ায়নি। এই 69 এই লেখকের রুপা এবং মিসির আলি চরিত্রের উদ্ভাবন করেন। আমরা গল্পে দেখতে পাই লেখক এর সাথে নাদিয়া এবং বিদ্যুৎ কান্তি দের একটা সম্পর্ক রয়েছে।

গল্পে আমরা বিদ্যুৎ কান্তি দে একটা ট্রাজেডি পাই। বিদ্যুৎ কান্তির বাবা ছিলেন একজন গরুচোর। গরু চুরি করে ছেলেকে মানুষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর বানিয়েছিলেন।বিদ্যুৎ কান্তি যখন তার বাড়িতে ফিরে তখন দেখে তার বাবাকে পেটানো হচ্ছে এবং তার বাবাকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

বাবা কে বাঁচানোর জন্য সে জ্বলন্ত আগুনে লাফ দেয় এবং বাবার সাথে দগ্ধ হয়। একসময় হাসান রাজা কে দোষমুক্ত করা হয় কিন্তু হাসন রাজা নিজের অপরাধ স্বীকার করেন, যে সেই তার মামাকে হত্যা করেছেন। কিন্তু কেন তার মামাকে হত্যা করল এই তথ্য অনুসন্ধান করতে হলে আপনাকে পুরো বইটি পড়তে হবে এটা একটি অন্যরকম টুইস্ট।উপন্যাসটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র উঠে এসেছে।

মোনায়েম খান এবং মতিয়া চৌধুরী বিষয়ে অনেক মজার তথ্য দেয়া হয়েছে। গল্পের শেষটা হয় অনেক দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে। নাদিয়ার দাদী মারা যায়। লেখক এইভাবে উপন্যাসটি শেষ করেন….দীঘির পানিতে নাদিয়া পড়ে আছে। তার চোখ খোলা।

যেন সে অবাক হয়ে পৃথিবী দেখছে। নাদিয়া দিঘীর যেখানে পড়ে আছে সেখানে এসে একবার নিজের ছায়া দেখে প্রচন্ড ভয় পেয়েছিল।

প্রিয় পাঠক মাতাল সময়ের মাতাল ঘটনাগুলো পড়ে যদি আপনার মাতাল মনকে আন্দোলিত করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনি পড়তে পারেন মাতাল হাওয়া। অসম্ভব সুন্দর একটি উপন্যাস যা আপনাকে মাতাল করতে অবশ্যই ভূমিকা পালন করবে। হ্যাপি রিডিং।

মাতাল হাওয়া পিডিএফ ডাউনলোড

মাতাল হাওয়া বইটির পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করতে পারবেন আমাদের ওয়েবসাইট থেকে। এ জন্য নিচে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে ডাউনলোড করুন।

হুমায়ূন আহমেদের লেখা সকল বই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আপনি সবগুলো বই সম্পূর্ণ ফ্রিতে ডাউনলোড করতে পারবেন। আমাদের ওয়েবসাইটের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.