ইতিহাস

নাস্তিক পন্ডিতের ভিটা (অতীশ দীপঙ্করের পৃথিবী) PDF Download সন্মাত্রানন্দ

বইটার লেখকের নাম খটোমটো হলেও, তার লেখার ভাষা খুবই সাধারণ। হ্যাঁ, বইটা যেহেতু তিনটে সময়ে এগিয়ে চলেছে তাই, অতীতের ঘটনা বর্ণনা করার সময় দশম-ত্রয়োদশ শতাব্দীর আমেজ আনতে গিয়ে লেখক একটু দুর্বোধ্য শব্দ ব্যাবহার করে, যা অনেকের বুঝতে কষ্ট হতে পারে। তবুও যারা ইতিহাস, সম্পর্কে জানতে আগ্রহী তাদের জন্য সেরা একটা বই!’নাস্তিক পন্ডিতের ভিটা’ বইটি প্রথম প্রকাশ হয় ২০১৭ সালের নভেম্বরে। এবং এই পর্যন্ত বইটা সাত বারের অধিক মুদ্রন হয়েছে। যা থেকে খুব সহজেই অনুমান করা যায় বইটির জনপ্রিয়তা। এই বইটি ধানসিঁড়ি প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা বইটির কাহিনী সংক্ষেপ

বজ্রযোগিনী গ্রামের এক কৃষক মাঠে কাজ করতে গিয়ে একটি কাঠের বাক্স খুঁজে পান । সেই বাক্সের ভেতরে পাওয়া যায় একটি পুঁথি , একটি তাম্র মূর্তি আর একটি মালা । এরপর থেকেই শুরু হয় সময় ভ্রমণ । একটি বিশাল যাত্রায় আপনি কখনো অতীত ছিলেন কখনো বর্তমানে আছেন কিংবা কখনো ভবিষ্যতে থাকবেন। পড়তে পড়তে এমন অবাক করা ভ্রমণ খুব কম করার সৌভাগ্য হয়েছে।

এটি অতীশ দীপঙ্করের জীবনের উপর রচিত বাংলা ভাষার প্রথম প্রমান্য উপন্যাস। বইটিতে মূলত তিনটি সময় নিয়ে লেখা হয়েছে!। বর্তমানে– অমিতায়ুধ। মাঝে– চাগ লোচাবা। আর অতীতে– অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।মূলত এই তিনটি চরিত্রকে নিয়ে লেখক একেঁছেন তিন, তিনটি সময়। এবং বলাই বাহুল্য তিনি সফলও হয়েছেন।

হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে আজকের এই পৃথিবীও। সময়ের এই গতিপথে ভ্রমন করতে করতে পরিচয় হবে আরো অনেকের সাথে। তবে সেই পর্যন্ত ধৈর্য ধরে এগোতে হবে।কারন ঐ যে বললাম, অতীত বর্ননা, তৎসম শব্দের ব্যাবহার। ওটা খটোমটো লাগতে পারে।

বইটি থেকে কিছু কথা না বললেই নয়–

‘যখন বৃক্ষরাজির ভিতর দিয়ে বহে যাবে সমুষ্ণ বাতাস, নদীর উপর ছায়া ফেলবে গোধূলিকালীন মেঘ…তখন, কেবল তখনই আমি তোমার কাছে আসব’-এই কথা বলে হাজার বছর আগে এক নারী ডুব দিল মৃত্যুর নিঃসীম অন্ধকারে। অন্তিম সেই উচ্চারণের অর্থ খুঁজতে গিয়ে চন্দ্রগর্ভ হয়ে উঠলেন অতীশ, তিব্বতি পর্যটক চাগ্‌ লোচাবা আহিত হলেন আটশো বছর আগেকার কোনো এক বাঙালি কুলবধূর পিপাসার্ত হৃদয়বিদ্যুতে, আর ধুনাতন কালে এক কৃষককন্যার মধ্যে সেসব কথাই গান হয়ে ফিরে আসতে দেখল অমিতায়ুধ।

মৃন্ময়ী প্রতিমা, দারুমূর্তি আর ধাতব আইকন খুলে ধরেছে অতীশ-চরিতের বহুবিধ বাতায়ন; তবু শেষ পর্যন্ত কাঠ, পাথর বা ধাতু নয়, দীপংকর এক রক্তমাংসের মানুষ, এক বাৎসল্যকরুণ হৃদয়, জীবনব্যাপী অন্বেষার এক ধ্রুব অর্থ। আর সেই বিশিষ্ট অর্থে প্রত্যেকেই আমরা অতীশ, প্রত্যেকেই দীপংকর।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে বইটি আপনার কেমন লাগবে?
উত্তর টা মোটেই সহজ নয়। এটা সম্পূর্ণ আপনার উপরেই নির্ভর করে। আপনি যদি এই ভিতর একবার ঢুকে যেতে পারেন, এবং শব্দের রোমান্টিকতা অনুভব করে সময় দিয়ে পড়তে পারেন, তবে এ বই আপনার জন্য।এ বই আপনাকে নিয়ে যাবে এক অনিন্দ্য সুন্দর ভ্রমনে।

তবে হ্যাঁ, এই বইটা বুঝতে হলে, অতীশ দীপঙ্কর কে জাতে হলে ভাষার মাধুর্যতা বুঝতে হবে। অতীত বর্ননা করতে গিয়ে লেখক যে সব শব্দ ব্যাবহার করেন, অনেকটা সাংস্কৃতিক শব্দ। তার উপর যদি কিছুটা দখল থাকলেই বইটা আপনার জন্য একদম পার্ফেক্ট।

শেষে একটা কথাই বলবো, ব্যাক্তিগত ভাবে এই বইটার অনেক কিছুই আমার হৃদয়ঙ্গম হয় নি। বুঝতে অসুবিধা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় বার বইটা আস্বাদন করার ইচ্ছা আছে।

Download Now

Show More

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.