উপন্যাস

অর্ধেক নারী,অর্ধেক ঈশ্বরী PDF Download আহমদ ছফা

আপনি যদি আহমেদ ছফা রচিত অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী উপন্যাস টি ডাউনলোড করতে চান তাহলে এখান থেকে খুব সহজেই করতে পারবেন। এজন্য নিচের দেওয়া লিংকে ক্লিক করে বিনামূল্যে পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করুন। আপনি চাইলেই বইটি সম্পর্কে পাঠকের রিভিউ এবং কাহিনী সংক্ষেপ জেনে নিতে পারেন।

অর্ধেক নারী, অর্ধেক ঈশ্বরী কাহিনী সংক্ষেপ ও রিভিউ

‘অর্ধেক নারী,অর্ধেক ঈশ্বরী’ আহমেদ ছফার রচিত প্রেম ও বিচ্ছেদের মিশেলে এক রোমান্টিক উপন্যাস। প্রচলিত ধারায় রোমান্টিক উপন্যাস বলতে যা বোঝায় এই উপন্যাসটি তার থেকে একটু ব্যতিক্রম কারণ এটি আহমেদ ছফার আত্মজৈবনিকমূলক উপন্যাস।

বইটির চরিত্র গুলোর প্রতিটিই বাস্তবেরই চরিত্র। এর ফলে উপন্যাসটি পাঠকের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু স্পর্শ করতে পেরেছে। এই উপন্যাসটি ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটির প্রকাশক মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা।

উপন্যাসটির মূল চরিত্র জাহিদ হাসান। যার জীবনে বিভিন্ন সময়ে আসা ৩ জন নারীর কাহিনী নিয়েই উপন্যাসটির গল্প গড়ে উঠেছে৷ জাহিদ হাসান একজন তরুণ লেখক এবং গবেষক।

স্বল্প আয়ের এই মানুষটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলেই থাকেন। টাকার অঙ্কে স্বল্প আয়ের হলেও তাকে কোনভাবেই কথাকথিত নিম্নবিত্তের কাতারে ফেলা যায় না। কারণ মানুষ মেধা ও মননে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

উপন্যাসের প্রথমেই পাঠক লক্ষ করবেন জাহিদ হাসান কোন এক রমনীকে উদ্দেশ্য করে মনের ভাব প্রকাশ করছেন। তিনি চেষ্টা চালাচ্ছেন সেই রমনীটির একটি অনন্য নামকরনের। আমরা কথকের বর্ণনার মাধ্যমে বুঝতে পারি মেয়েটি বয়সে তরুন এবং রুপে অনন্যা।

কবি হৃদয়ের দেওয়া যে কোন নামই তার কাছে হার মানে। সেই মেয়েটিকেই জাহিদ হাসান উপন্যাসের শুরুতেই সম্বোধন করেছেন অর্ধেক নারী,অর্ধেক ঈশ্বরী হিসেবে। তিনি মেয়েটির নাম দিতে চেয়েছিলেন ঈশ্বরী কিন্তু পরে ভেবেছেন ঈশ্বরের সাথে তুলনা করা চলবে না কারণ ঈশ্বর কারো একার নন।

তিনি মেয়েটিকে পেতে চেয়েছেন শুধু নিজের করে। তাই তিনি শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন সংগীত শাস্ত্রের। তিনি মেয়েটির নামকরণ করেন “সোহিনী”। যা শাস্ত্রীয় সংগীতের একটি রাগের নাম। নামকরনের পরে তিনি বিস্তারিত বর্ণনা দেন এই “রাগ”টি নিয়ে।

তারপর বর্ণনা করেন সোহিনীর রুপ নিয়ে৷ এই বর্ণনার মাধ্যমে কল্পনা প্রবন পাঠকেরা নিজেদের কল্পনায় এক অনিন্দ্য সুন্দরী মানবীর ছবি দেখতে পাবেন। কথকের এত বর্ণনা,এত আবেগ প্রকাশের পরও পাঠক সোহিনীর আসল পরিচয় শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারবেন না কারণ লেখকের অভিপ্রায় এমনই ছিলো।

এই সোহিনীকে নিজের জীবনের নারীদের কথা বলতে শুরু করলেই তখন থেকে শুরু হয় উপন্যাসটির মূল যাত্রা।তিনি প্রথমেই বর্ণনা করেন তার প্রথম প্রেমিকা দুরদানার কথা। দুরদানার পরিচয়পর্বে আমরা দেখি দুরদানা ছিলো আর্ট ইন্সটিটিউটের ছাত্রী।

চাল চলনে তিনি ছিলেন সেই সময়ের অন্যান্য মেয়েদের তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি সাইকেলে চলাফেরা করতেন এবং পোশাক পরিচ্ছদও ছিলো পুরুষসুলভ। প্রতিদিন শতশত পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি এবং আশেপাশের মানুষের কটুক্তি উপেক্ষা করে দুরদানা সম্পূর্ণ নিজের মতো জীবনযাপন করতেন।

এসকল ভীন্নধর্মী এবং পুরুষসুলভ আচরণের জন্যেই মুলত গল্পের কথক জাহিদ হাসান তার প্রতি আকৃষ্ট হন। বাড়তে থাকে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে৷ দুরদানাও তার প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকেন। কিছুদিনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পরতে থাকে তাদের ঘনিষ্টতার খবর।

জাহিদ হাসানের মতো একজন নির্লিপ্ত মানুষের সাথে দুরদানার এধরণের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেন না অনেকেই৷ অনেকেই জাহিদ হাসানকে বোঝাতে থাকেন দুরদানা ভয়ংকর স্বভাবের মেয়ে। উপদেশ দেন তার থেকে সরে আসতে। কিন্তু এসকল মন্তব্য শোনার পর জাহিদ হাসানের দুরদানার প্রতি আকর্ষন আরো বেড় যায়।

দিন দিন তারা জড়িয়ে পরতে থাকেন ওতোপ্রোতো ভাবে। এসব সতর্কতামূলক মন্তব্য ছাড়াও দুরদানার সঙ্গ ছাড়ার জন্য আসতে থাকে প্রচুর হুমকি ধামকি। কিন্তু কোনকিছুই তাদের দূরত্ব বাড়াতে পারে না।

কিন্তু কাহিনী পরিক্রমায় এই দুরদানার সাথেও তার বিচ্ছেদ ঘটে যায়। লেখক এই দুরদানার চরিত্রটি রচনা করার সময় দেখিয়েছেন তৎকালীন বাংলাদেশের নারী সমাজের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন আলাদা।

লেখক দুরদানাকে এক নারীবিপ্লবীর আসন দিয়েছেন এই উপন্যাসে। কথকের সাথে মিলন হোক বা না হোক দুরদানা চরিত্রটি পাঠকের হৃদয়ে একটা আলাদা জায়গা দখল করে থাকবে।এরপর আসে কথকের জীবনের দ্বিতীয় নারী শামারোখের কথা। শামারোখ ছিলেন অসম্ভব সুন্দরী এবং মেধাবী নারী।

তিনি তার সৌন্দর্য কে অনেকটা ব্যবহার করেছেন তার হাতিয়ার হিসেবে। এখানেই দুরদানার সাথে তার পার্থক্য। তার সৌন্দর্যের কারণে কথক তার প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকেন এবং ঘনিষ্টতা বাড়তে থাকে। এ নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকের শুরু হয়ে যায় মাথা ব্যথা।

এক পর্যায়ে কথকের সহযোগীতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে বাড়তে থাকে দূরত্ব। ফলে এই সম্পর্কের ও ইতি ঘটে৷

লেখক পুরো উপন্যাসটি জুড়েই মানব মানবীর সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরেছেন। কাহিনীর একদম শেষে তিনি সোহিনীর কাছে শামারোখের শেষ পরিণতির কথা বলেছন। তবে তিনি তা উল্লেখ করেছেন গোপন কথা হিসেবে।

শামারোখের সেই পরিণতি এবং কথকের অবস্থা জানতে হলে পাঠককে সম্পূর্ণ বইটি অবশ্যই পড়তে হবে।
বই পড়ুন,বইকে ভালোবাসুন।

অর্ধেক নারী, অর্ধেক ঈশ্বরী পিডিএফ ডাউনলোড

আহমেদ ছফা রচিত অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী রোমান্টিক উপন্যাস টি আমাদের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। নিচে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করুন। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাইলটি ডাউনলোড সম্পন্ন হবে।

আহমেদ ছফার অন্যান্য উপন্যাস এবং প্রবন্ধগুলো আমাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। এছাড়াও বাংলা সাহিত্যের সকল কালজয়ী উপন্যাস ছোটগল্প নাটক বা প্রবন্ধ এখান থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাবে।

আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। নিজে বই পড়ুন এবং অন্যকে বই পড়তে উৎসাহিত করুন। আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.