থ্রিলার

অভিমন্যু PDF Download দিবাকর দাস

সাহিত্য জগতে দিবাকর দাস একটা পরিচিত নাম। অনেকেই হয়তো চিনেন। আবার অনেকে হয়তো চিনেন না। তবে তিনি প্রথম যে বইটি দিয়ে পাঠকের মনে এবং পাঠক মহলে নিজের একটা জায়গা করে নিয়েছিলেন সেটা হলো ‘অভিমন্যু’। তার সব থেকে বড় এবং অসাধারণ একটা কাজ। দীর্ঘ এর কলেবরের উপন্যাস কিন্তু খুবই বিস্তৃত! তো যারা এই বইটা পড়েন নি তাদের বলবো বইটা পড়ে ফেলুন। বইটির পিডিএফ পড়ে ফেলতে পারেন আমাদের ওয়েবসাইট থেকে অনায়াসে।

কাহিনী সংক্ষেপ

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুনপুত্র অভিমন্যু চক্রব্যূহে আটকা পড়েছিল। এই গল্পের নায়কেরও সেই দশা হয়৷ সে কি পারবে সমস্ত কুটিল চাল ভেদ করতে নাকি শেষ পরিণতি হবে অভিমন্যুর মতো— তা নিয়েই এই কাহিনী।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা গল্পের নায়ক রবি। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে অবৈধভাবে গরু পাচার করতে যায় তার বাবা, তার ভাই, সে এবং দালাল মাধব। ফিরতি পথে বাকি তিনজন মারা যায়, ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় সে। বিদেশ বিভূঁইয়ে আটকা পড়ে গল্পের নায়ক কিশোর রবি!

পরবর্তীতে সে জানতে পারে যার সাথে ব্যবসা করা হয়েছিল সেই ব্যাপারীই ছিল মূল হোতা এই হত্যার! এবং এক দালালের মাধ্যমে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অর্থলিপ্সু কতিপয় জওয়ান এই হত্যা করেছে। এ খবর জানার পর প্রতিশোধস্পৃহায় টগবগ করতে থাকে রবির রক্ত৷ এই বিদেশ বিভূঁইয়ে সে কি পারবে তার পিতৃ-ভ্রাতৃহন্তারকদের শাস্তি দিতে নাকি নিজেই শেষ পরিণতি বরণ করবে— এই নিয়েই এগিয়ে যায় গল্প।

মহাভারতে চক্রব্যূহে অভিমন্যু প্রবেশ করেছিল একা৷ কিন্তু এই চক্রব্যূহে শুরুতে নায়ক রবি একা থাকলেও তার সাথে জড়িয়ে পড়ে স্থানীয় ড্রাগ ডিলার বীরু, তার সহযোগী নিতাই এবং রবির বন্ধু যে তাকে খাদ্য ও আশ্রয় দিয়েছিল সেই নন্দু। রবির সাথে সকলের পরিণতি যেন একসূত্রে গাঁথা হয়ে যায়।

ভগবদগীতায় শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে উপদেশ দিয়েছিলেন— পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চং দুষ্কৃতম ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভাবামি যুগে যুগে
মহাভারতে অভিমন্যুর মৃত্যু ঘটলেও কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের মাধ্যমে দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন হয়৷ এই গল্পেও যেন ঠিক একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে। সব কিছু পেরিয়ে কি হয় এর পরিনতি? সবটা জানতে পড়ে ফেলুন বইটি!

যাস্ট অসাধারন একটা প্লট! এমন একটা প্লট যে, ভাবলেই অবাক লাগে, এই প্লটেও এত দারুন গল্প বুনা যায়। আসল সহযাত যে গল্প বলার ধরন সেটা নিয়েই যেন জন্মেছেন দিবাকর দাস।

তার লিখনী এবং উপস্থাপনশৈলী দুটোই খুব আকর্ষনীয়। একদম সাবলীল ভঙ্গীতে লিখে চলেছেন জীবনের কথা। এই সাবলীলতা আয়ত্ব করতে সময় লাগে। লেখক পেরেছেন।

এবার চরিত্র নিয়ে কিছু বলি, গল্পের নায়ক রুবিকে খুব যত্নের সাথে তুলে ধরেছেন। কিন্তু শুধু গল্পের নায়ক না, বাকি আর সবাইকে স্বতন্ত্র ভাবে। যেমন, নন্দী, বীরুদা, নিতাই…এরা সবাই একেকজনকে স্বতন্ত্র ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। নন্দুর সরলতা আর বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা, বিশ্বস্ততা যেমন পাঠককে নাড়া দিবে, তেমনি বীরুদার রহস্যময় আচার-আচরণ এসব কিছুই ভাবাবে পাঠককে। চরিত্রের এই ব্যাপারটা লেখকের অন্য বইয়েও দেখেছি। খুব যত্নবান লেখক এই ব্যাপারে।

গল্পটা মূলত একটা সামাজিক, জিবনীভিত্তিক উপন্যাস হত। কন্তু লেখক চেয়েছেন সেখানে একটু থ্রিল ঢুকাতে। এবং বলা যায় তিনি সক্ষমও হয়েছেন। সেজন্য গল্পের মোড় কিছুটা ঘুড়েছে, তবে তেমন প্রভাব পরেনি। এজন্য বইটাকে একটা রিভেঞ্জ থ্রিলারও বলা যায়।
গল্পের শেষটা লেখক ভালোভাবেই করতে পেরেছেন।

সবশেষে বলবো, অসাধারণ একটা উপন্যাস পড়ার ইচ্ছা থাকলে এই বইটা পড়তে পারেন। এবং নির্দ্বিধায় বলতে পারি বইটা একটা মাস্টারপিস!

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.