থ্রিলার

পিপীলিকার ডানা PDF Download সিদ্দিক আহমেদ

বর্তমানের থ্রিলার লেখকদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় লেখক হলেন ‘সিদ্দিক আহমেদ’। তবে তিনি ঐতিহাসিক থ্রিলার লেখক হিসেবে সাধারণ পাঠকের কাছে বেশি সমাদৃত। কারন বেশ কয়েমটা পাঠক প্রিয় ঐতিহাসিক থ্রিলার লিখেছেন তিনি। তবে অন্য ধারার লেখা যে একেবারে লিখেন নি তা কিন্তু না। সেরকমই একটি মার্ডার মিস্ট্রি থ্রিলার বই হলো ‘পিপীলিকার ডানা’। নামটা কেমন জানি! কিন্তু নাম দিয়ে বইয়ের কাহিনী বুঝা সহজ না! সে যাই হোক, এই অসাধারণ বইটি যারা এখনও পড়েন নি তারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে বইটির পিডিএফ পড়ে ফেলতে পারেন অনায়েসে।

কাহিনী সংক্ষেপ

ঢাকার এক পুরান মার্কেটের সামনে পাওয়া গেল একজনের মৃতদেহ। তদন্তে নামলো ইন্সপেক্টর হাফিজ। কিন্তু কোন সূত্র পাওয়া গেল না। কেউ জানেনা কে ওখানে লাশ ফেলে গেছে।

ভাগ্যচক্রে কালাম নামের এক ফকির যে কিনা চোখেই দেখে না, কানা সেজে ভিক্ষা করে, সে একজন সিএনজি ওয়ালাকে লাশটা ফেলে দিতে দেখে ফেলে! সেই কালাম তখন ওই সি এন জি ওয়ালাকে খুজে ব্ল্যাকমেইল করতে চায়। অন্যদিকে পুলিশ কালাম কে ধরে ফেলে। শুরুহয় তিন পক্ষের চোর পুলিশ খেলা! কিন্তু কালামকে কেন পুলিশ ধরলো?

কাহিনী শুরু হতে না হতেই একটা লাশ পাওয়া যায় আর প্রথম পাতায়ই শুরু হয় সেই বহুপরিচিত খুনের তদন্ত। থানা, পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী, জবানবন্দী, জেরা, তল্লাশি ইত্যাদির চক্কর শুরু হওয়ায় কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম। তবে একটু পরেই মার্ডার মিস্ট্রির আড়ালে ভালোবাসা ও নিয়তির এক গল্প ফুটে উঠে হতাশা ভুলিয়ে দিলো পুরোপুরি৷ আর একদম গল্পে ডুবে গেলাম!

চরিত্র বিশ্লেষণ

উপন্যাসটি আবর্তিত হয়েছে মূলত তিনটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে। হত্যারহস্য তদন্তকারী ইন্সপেক্টর হাফিজ, প্রত্যক্ষদর্শী কানা ফকির এবং সন্দেহভাজন সিএনজি ড্রাইভার হাশেম। এবং সাথে আছে তাদের সবার পরিবার।

প্রত্যেকটা চরিত্র খুব যত্ন নিয়ে গড়া, তাদের জীবনের গল্পগুলো, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নগুলোর সূক্ষ্ম বুনন পাঠককে নাড়া দিতে বাধ্য। লিখনীও তেমন! একেবারে মনে দোলা দিয়ে উঠে।

ঘুনে খাওয়া অথচ আশ্চর্য মায়াময় এই নগরীর গলিঘুপচিতে ঘুরে বেড়ানো সাধারণ কিছু মানুষকেই যেন লেখক অসাধারণ রূপ দান করেছেন। মাত্র ১৯২ পৃষ্ঠায় এতো সুন্দর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট পড়ে মুগ্ধ হয়েছি। ঢাকা শহরবাসীর খুব চেনা উপাদানগুলো একদম বাস্তব ভিত্তিক করে তুলে ধরা হয়েছে। যেমন ধরুন- রাস্তার ভিক্ষুক, মানুষে গিজগিজ করা বস্তি, কোনো রাজনৈতিক সমস্যায় নীর্মানাধীন দালানের কাজ বন্ধ থাকা। ঢাকার বিখ্যাত জ্যাম। আছে ঢাকার আরও অনেক উপাদান যার ফলে উপন্যাসের প্লট আর পরিবেশটা একেবারে নিজের এলাকার মতই পরিচিত লাগিছিল!

মেদ বিহীন লেখনী হয়তো একেই বলে। প্রয়োজনের বেশি একটা উপাদানও ছিলো না পুরো উপন্যাসে। একটানে পড়ে ফেলার উপযোগী বই, লেখনী আর টুইস্ট দুইয়ে মিলে আকর্ষণ ধরে রাখতে বাধ্য। পুরোটা বই জুড়ে থ্রিলার আর সামাজিক দুইধারার কাহিনীর মেলবন্ধনও বেশ চমৎকার ছিলো। ধনুর্ধর আর পিপীলিকার ডানা পড়ার পর প্রিয় লেখকদের তালিকায় সিদ্দিক আহমেদের নাম পাকাপোক্ত হয়ে গেলো। সত্যি কথা বলতে কি সিদ্দিক আহমেদ এমনই শক্তিমান লেখক যে তাঁর বই পড়ে ভক্ত না বনে উপায় নেই!

এত ছোট বইয়ে এত সুন্দর করে গল্প বুনার আরও একটা বড় কারন হলো লেখকের লিখনশৈলী। সুন্দর কাব্যিক ছন্দময়তায় তিনি প্রতিটা লাইন লিখেন। এবং খুব ঝরঝরেও। ফলে তরতরিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়। কোথাও আটকাতে হয় না।

সবশেষে বলবো, রিডার্স ব্লকে থাকলে এই বইটা পড়তে পারেন। এছাড়া অসাধারণ একটা কাহিনী উপভোগ করতে চাইলেও বইটা অবশ্য পাঠ্য।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.