থ্রিলার

প্রভাতে প্রণয় রফিকুল ইসলাম বাপ্পী PDF download (থ্রিলার)

রফিকুল ইসলাম বাপ্পী একজন নতুন
লেখক। নতুন লেখক হলেও একটা নিজস্ব পাঠকমহল আছে তার। এবং খুব জনপ্রিয়ই বলা যায়। আমি তাকে চিনেছি তার দারুন একটা উপন্যাস প্রভাতে প্রণাম বইটার মাধ্যমে। প্রথম পরিচয়টা ভালোই হয়েছে বলা যায়। যারা লেখকে বই পড়েন নি তারা পড়ে দেখতে পারেন। আমাদের ওয়েবসাইট থেকে বইটির পিডিএফ ফাইল পড়ে  কাহিনী সংক্ষেপঃ রিজু নামের একটি ছেলে। ছেলেটা তার জীবনের প্রাত্যহিক ঘটনা বলতে থাকে। তার সকালগুলো শুরু হয় সূর্যদয়ের আগে থেকে জানালার পাশে একটি চেয়ারে বসে যে চেয়ারকে সে বলে রহস্যময়। কেন রহস্যময় তার ঘটনা সে অবশ্য পরে ব্যাখ্যা করে। সে থাকে তার এক মামার বাসায় যে তার আপন মামা না। মামার নাম আজিজ।

এই মামার এক ছেলে আছে নাম জিসান আর রিজুর মামী এদের সাথে রিজুর অনেক ভালো সময় কাটে। মাগুর মাছের পোনা আনা নিয়ে ঝগড়া মিটানো থেকে শুরু করে জিসানের সাথে দাবা খেলা আড্ডা দেওয়ায় রিজুর সময় কেটে যায়। আবার রিজু তার মামার কাজও করে দেয় মাঝে মাঝে এরমধ্যে একদিন রিজু তার মামার কথায় একটি পার্সেল নিয়ে একটি গ্রামে যায় সেখানে ঘটে রহস্যময় ঘটনা সে কৌতুহলবসত পার্সেলটি দেখে ফেলে কিন্তু কথা হলো সে পার্সেলগ্রহীতা তা বাসায় বসে কিভাবে যেন জেনে ফেলে এই রহস্যের জট খুলতে পারছেনা রিজু। পরে রিজু তার মামার কাছ থেকে জানতে পারে লোকটি কবিরাজ তাকে সবাই আলম কবিরাজ নামেই চিনে।

রিজুর মায়ের বাসায় রিজুর এক ঘনিষ্ঠ ভাই আছে যার নাম হোসাইন তার সাথে রিজুর অনেক গল্প হয় হোসাইন ভাইয়েরও কিছু গল্প উঠে এসেছে। রিজুর বন্ধু আবিব প্রসঙ্গেক্রমে উঠে আসে যে প্রচুর দুঃস্বপ্ন দেখে।

রিজু আবার আরেকদিন তার মামার পার্সেল নিয়ে যায় সে গ্রাম। সাথে আছে তার বন্ধু সাকিব। যেতে যেতেই বিকাল হওয়ায় তারা এবার আলম কবিরাজের বাসায় রাতে থাকার সিদ্বান্ত নেয়। তারপর একটু গ্রামটা ঘুরব দেখতে বের হলে স্থানীয় মানুষদের থেকে জানতে পারে গ্রামে চারটা বিষয় নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। রিজু বিস্তারিত জানতে চাইলে বলে- তিনাই নামে একটা পুকুর আছে যেখানে মানুষ একবার ডুবলে আর খুজে পাওয়া যায় না।
তারপর কবিরাজের বাড়িতে নাকি ভূতে ছড়া পড়ে! এমন অদ্ভুত একইসাথে ভুতুড়ে কথা শুনে বেশ অবাক হয় সে।
রিজু কবিরাজের বাড়িতে থাকতে তার মামা একটি কাজ করতে বলে যেটা তার মনে রহস্য জাগিয়ে তুলে। সে মামার বাড়ি ফিরে তার মামীর কাছ থেকে জানতে পারে সে বাসায় না থাকলে একজন লোক আসে তো তার মামী যে বর্ণনা দেয় তা মিলে যায় রিজুর মায়ের গ্রামের মুয়াজ্জিনের চেহারার সাথে! এর পিছিনের রহস্য কি? কোন গল্পই বা লুকিয়ে আছে এর গভীরে?

প্রথম হিসেবে বইটা যথেষ্ট ভালো। হ্যাঁ একজন লেখক প্রথম থেকেই অসাধারণ লিখবে না। তিনিও তাই। তবে দারুন একটা প্লটে লিখে গেছেন। বইয়ের নাম শুনে রোমান্টিক মনে হয়। তবে রোমান্টিক না বরং রোমাঞ্চকর বলা যায়। আর থ্রিলের স্বাদ আছে ভালোমতই।
মূলত যেটা ভালো লেগেছে সেটা হলো লিখনী। পাঠক ধরের রাখার মত লিখনী বলে না, ওমন আরকি।
বেশ ভালোভাবেও একেকটা ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তবে কোনো কোনো জায়গায় খুব ছোট করে সেরে দিয়েছেন। কিন্তু একজন নতুন লেখক হিসেবে ভালো কাজই দেখিয়েছেন বলা যায়।

চরিত্রায়নে আরও একটু মনোযোগ দিলে ভালো হত। ব্যাস আর কিছু না!

সবশেষে বলবো, নতুন ভালো জিনিস চেখে দেখতে বইটা পড়তে পারেন। দুর্দান্ত না, তবে দারুন লাগবে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *