থ্রিলার

শব্দযাত্রা লেখক সংঘ PDF Download জুবায়ের আলম

আজকাল থ্রিলার পাঠকদের মুখে জুবায়ের আলমের নামটা বেশ শুনা যায়। কারনও আছে। লেখক তার দ্বিতীয় থ্রিলার উপন্যাস ‘শব্দযাত্রা লেখক সংঘ’ বইটা ফিয়ে ইতিমধ্যে বাজিমাত করে ফেলেছেন। এর অন্যতম কারন লেখকের লিখনশৈলী এবং ভিন্ন ধরনের একটা নাম! সিরিয়াল কিলিং এর সাদামাটা বই কেন এত জনপ্রিয়তা পায় সেটা বুঝতে হলে বইটা পড়তে হবে। সুতরাং যারা বইটা এখনও পড়েন নি তারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে বইটির পিডিএফ পড়ে ফেলতে পারেন।

কাহিনী সংক্ষেপ

খুন হতে শুরু হলেন বেশ কিছু লেখক, প্রকাশক ও চিত্রনাট্যকার। ধীরে ধীরে প্রকাশিত হতে শুরু করল এই প্রকাশনা জগতের এক ঘোলাটে অতীত। সুকান্ত, একজন টাইপিস্ট ও ভূতলেখক। টাকার বিনিময়ে অন্যের হয়ে বই লিখে দেয় সে। সবসময়ে গা বাঁচিয়ে চলা সহজ সরল সুকান্ত খুনগুলোর সাথে নিজেকে জড়িয়ে এই কেইসের প্রাইম সাসপেক্ট বনে যায়।

ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের ডোমেস্টিক হোমিসাইড সেকশনের চিফ এজেন্ট আমানুল্লাহ বিশেষ ক্ষমতাধারী ক্রিমিনোলোজিস্ট জায়েনুদ্দিনকে নিয়ে নেমে পড়েন তদন্তে। কে করছে এই খুনগুলো? সুকান্ত কি আসলেই খুনগুলোর সাথে জড়িত নাকি তাকে ফাসানো হচ্ছে? কে এই ‘পাছাখানার ভূত’? আর ‘শব্দযাত্রা লেখক সংঘ’ এ জিনিসটাই বা কি?

শব্দযাত্রা লেখক সংঘ আমার পড়া তরুণ লেখক জুবায়ের আলমের প্রথমের বই। এবং উনার দ্বিতীয় উপন্যাস। সিরিয়াল কিলিং বিষয়ক একটা ক্রাইম, মিস্ট্রি থ্রিলার শব্দযাত্রা লেখক সংঘ। বইটির ব্যাপারে যখন প্রথম জানতে পারি তখন ব্যাককভারের লেখাগুলো পড়ে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগে। বেশ কয়েকটা রিভিউ ও কাহিনী সংক্ষেপ পড়েই ধারণা পাই যে সিরিয়াল কিলিং নিয়ে একটু অন্যরকম প্লটের একটা বই পড়তে যাচ্ছি। বইটি পড়তে বসে এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক প্রমাণিত হয়। কিন্তু সেটা খুব একটা সাদামাটা না!

প্লটটা বেশ বেশ উইনিক। এরকম প্লটে গল্প বুনন করাটাও সহজ না। এক্সিকিউশনও চমৎকার। বইটি বেশ গতিশীলও। একদম প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা পর্যন্ত লেখক আপনার সম্পূর্ণ মনোযোগ ও আগ্রহ ধরে রাখব্ব। এমনকি বইয়ের ৬ পাতার ভূমিকাটাও বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে আমার কাছে। পুরো বইটিকে সাজানো হয়েছেও দারুণভাবে।

যেভাবে প্রতিটি অধ্যায়ের ইতি টানা হয়েছে বইটি হাত থেকে নামানো কষ্টকর ছিল। অধ্যায়গুলোর নামও বেশ আকর্ষণীয় লেগেছে। যে কয়টা একশন সিকুয়েন্স আছে বইয়ে সবগুলোই দারুণ। বইয়ে বেশ কিছু মনে রাখার মতো ঘটনা ছিল। বিশেষ করে, হবিগঞ্জের হাওড়ের অংশে চমৎকার আবহ তৈরি করেছিলেন লেখক। ঐ পুরো অধ্যায়টাই দারুণ ছিল, অনেক দিন মনে রাখার মত।

জুবায়ের আলমের বর্ণনাভঙ্গি আমার দারুণ লেগেছে। অনেক সাবলীল আর আকর্ষণীয় বর্ণনাভঙ্গি উনার। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উনার গল্প বলার ভঙ্গী মুগ্ধ করেছে। এই প্লটে এরকম চমৎকার লেখনীই দরকার ছিল। কোথাও মনে হয়নি লেখক বেশি বর্ণনা দিচ্ছেন বা এই ঘটনার আরেকটু বর্ণনা থাকলে ভালো হতো। প্রতিটি চরিত্রের সংলাপও পারফেক্ট ছিল।

এ বইয়ের চরিত্রায়নও দারুণ ছিল। সুকান্ত , আমানুল্লাহ , জায়েনুদ্দীন সবাইকেই ভালো লেগেছে এবং সবগুলো চরিত্রই প্রয়োজনমতো ফোকাস পেয়েছে। খুব কম সময়ের জন্য দৃশ্যপটে এলেও মুনশী মোয়াল্লেমের চরিত্রটি আলাদা করে ছাপ ফেলতে সক্ষম হয়েছে। সুতরাং বলাই যায় চরিত্রের কোনো ঘাপলা নাই।

আর বইয়ের শেষটা যদি বলি, মানে শেষের অংশ যদি বলি তাহলে বলতে হয় লেখক যাস্ট অসাধারন মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। পুরো বইটা যেরকম উপভোগ্য, ততটাই এন্ডিংটা! খুব সুন্দর গুছিয়ে বইয়ের সমাপ্তি টেনেছেন। অর্থাৎ বইটা পড়ে আপনার কোনো আক্ষেপ থাকবে না।

সবশেষে বলবো, যাস্ট অসাধারন একটা বই। না পড়লে মিস!

Show More

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.