থ্রিলার

সিগমা ফোর্স ৫ দ্য লাস্ট ওরাকল PDF Download জেমস রলিন্স

জেমস রলিন্স যে একজন জিনিয়াস এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বরাবরই তাঁর কাজ দিয়ে পাঠকদের মুগ্ধ করে আসছেন। হ্যাঁ, সিগমা ফোর্স সিরিজের জন্মদাতা সেই জেমস রলিন্সের কথায় বলছি। শুধু এই সিগমা ফোর্সই না নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলার হয়েছে তার অনেক বই। তিনি নিজেও একজন বেস্ট সেলার লেখক! সিগমা ফোর্স এর পঞ্চম বইটি হলো ‘দ্য লাস্ট ওরাকল। বরাবরের মতো এটাও তার জনপ্রিয় একটা বই। আদী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই বইটি থেকে যারা এখনো বঞ্চিত তারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে বইটির পিডিএফ পড়ে ফেলতে পারেন।

“মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ বরগুলো আসে উন্মাদনার রূপ নিয়ে, যা নিজেই এক স্বর্গীয় আশীর্বাদ।” – সক্রেটিস, ডেলফির দৈববাণী প্রসঙ্গে।

কাহিনী সংক্ষেপ

ভবিষ্যৎবাণী বিশ্বাস করেন? কখনো হাত দেখিয়ে টাকা পয়সা বা বিয়ে ভাগ্য জানতে চেষ্টা করেছেন? ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যেকটা মানুষেরই সীমাহীন আগ্রহ কাজ করে। আর সেটাই স্বাভাবিক। তাই যুগ যুগ ধরে মানুষ ওরাকলদের বিশ্বাস করতো, সম্মান দিতো। ঝড়ে বক মারা হোক অথবা কোন অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতা, ওরাকল বা ভবিষ্যৎ বক্তাদের অনেক কথাই পরবর্তীতে মিলে গেছে। জিপসী বা রোমানিদের মধ্যে এখনো এমন ভবিষ্যৎ বাণীর প্রচলন বহাল আছে। কে জানে, তাদের মধ্যে কেউ সত্যিই ক্ষমতাধর কিনা!

এই বইটার মূল প্লটও তাই নিয়ে। রলিন্স মানেই যে, রোলার কোস্টার। কথাটা কেউ অস্বীকার করবে বলে মনে হয় না। করতে পারবেও না! সিগমা ফোর্স এর এই বইটাও একই। অতীতের সাথে বর্তমানকে এক সূত্রে গাঁথা, বড় কোন বিপর্যয়ের ঠিক আগ মুহুর্তে গ্রে, পিয়ার্স আর অন্যান্যদের ছুটাছুটি। শুরুতেই দেখা যায় ডেলফির মন্দিরে আক্রমণ, এরপরের দৃশ্যেই বর্তমানকালে গ্রের হাতে পড়ে একটা প্রাচীন মুদ্রা, যাতে ডেলফির মন্দির অঙ্কিত। মুদ্রা এনে দেয়া ব্যক্তির মৃত্যু রহস্যের পিছনে ছুটতে গিয়ে গ্রে আবিষ্কার করলো, পৃথিবীবাসীর জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে সামনে। এখন উপায়? আর আছে জিপসী বা রোমানিরা, তাদের কি কাজ?

সিরিজের এই বইটা আমার কাছে কেন জানি একটু বেশিই সিনেমাটিক মনে হয়েছে। অবশ্য তিনি একটু সিনেমাটিক ভাবেই লিখেন। শেষার্ধে এসে তো মার্ভেলের খুব প্রিয় একটা সিরিজের কথাই মনে পড়ছিল। তবে বরাবরের মতোই উপভোগ্য ছিল সময়টা। তথ্যগুলো অসাধারণ লাগে আমার কাছে। যেনো সব কিছুর ব্যাখ্যাই তাঁর কাছে আছে। এই ব্যাপার টা দারুন।

এবার আসা যাক অনুবাদ প্রসঙ্গে। অনুবাদ বইয়ের ক্ষেত্রে অনুবাদ এবং অনুবাদক খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। লেখক যতই গুন সম্পন্ন হোক না কেন অনুবাদক যদি যদি ভালো না হয়, তাহলে সে বইয়ের বারোটা বেজে যায়। এই বইটা অনুবাদ করেছেন আমাদের সকলের চেনা রিজন ভাইয়া। এই মানুষটার গুণ আছে বলা যায়। বেশ ভালো অনুবাদ করেছেন তিনি।

তাকে চিনলেও তার অনুবাদ করা কোনো বই পড়লাম এই প্রথম। মজার ব্যাপার হলো এটাই তার অনুবাদ করা প্রথম বই। তাই বলে ভাববেন না যে তিনি খারাপ অনুবাদ করেছেন। হয়তো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই কিন্তু তিনি যা অনুবাদ করেছেন তা আমার এক্সপেক্টেশন পুরোন করতে পেরেছেন। ভালো ভালো অনুবাদকের সংস্পর্শে এসে তিনিও একজন ভালো অনুবাদক হবেন এটা আশা করাই যায়
এছাড়া সবার আগে তিনি নিজে একজন পাঠক, জানে পাঠককে কি দিতে হবে।

জেমসের বই নিয়ে আর বিস্তারিত আলোচনা করার কিছু নাই। জেমস রলিন্সের যে কোনো বই যদি অনুবাদ ভালো হয় তো চোখ বন্ধ করে পড়ে ফেলা যায়। শেষে একটা কথাই বরাদ্দ সিগমা ফোর্স সিরিজের এই বইটাও মিস করবেন না।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.