উপন্যাস

তিতাস একটি নদীর নাম PDF Download অদ্বৈত মল্লবর্মণ

‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। লেখক তার জীবনে মাত্র এই একটি উপন্যাস রচনার মাধ্যমে লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। লেখকের জীবনের পরিধি ছিল মাত্র ৩৭ বছর। মাসিক পত্রিকা ‘মোহাম্মদী’তে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছিল।

তিতাস একটি নদীর নাম কার লেখা

উপন্যাসটির কয়েকটি অধ্যায় মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হবার পর লেখক উপন্যাসের মূল পান্ডুলিপিটি রাস্তায় হারিয়ে ফেলেন। পরে পাঠক ও বন্ধু-বান্ধবের আন্তরিক অনুরোধে লেখক উপন্যাসটি আবার লেখতে শুরু করেন এবং সম্পূর্ণ করেন। অদ্বৈত মল্লবর্মণের মৃত্যুর কয়েক বছর পর উপন্যাসটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

তিতাস একটি নদীর নাম রিভিউ

১৯৭৩ সালে বিশিষ্ট চলচিত্রস্রষ্টা ঋত্বিক কুমার ঘটক এই উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে একটি চলচিত্র নির্মাণ করেন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ শিরোনামে। উপন্যাসটির মূল উপজীব্য দরিদ্র মালো শ্রেণীর মানুষের কষ্ট জর্জরিত জীবনের কাহিনী। উপন্যাসটি মূলত ৪টি অংশে বিভক্ত এবং এই চারটি অংশ আবার ২টি করে উপঅংশে বিভক্ত।

উপন্যাসটির সূচনা হয় তিতাসের বর্ণনা দিয়ে, তিতাস একটি মাঝারি নদী যা মেঘনা থেকে বেরিয়ে কিছু পথ একা চলে আবার মেঘনাতেই মিশেছে। তিতাস কোন মৌসুমে শুকিয়েও যায় না আবার বর্ষায় বন্যার ও সৃষ্টি করে না। তিতাসের পাড় ঘেষেই গড়ে উঠেছে একটি গ্রাম যেখানে মূলত মালো বা জেলেরা বসবাস করে। আর এই গ্রামেই বসবাস করে কিশোর আর সুবল নামের দুইটি বালক। যারা একে অপরের খুব ভালো বন্ধু।

কিশোরদের অবস্থা বেশ ভালো, তাদের নিজস্ব নৌকা আর জাল আছে, সুবলদের অবস্থা তেমন একটা ভালো নয়। কিশোর আর সুবলের এক খেলার সাথী আছে সে হলো বাসন্তী। বাসন্তীর মায়ের খুব ইচ্ছা এই দুই বালকের যেকোনো একজনের সাথে মেয়ের বিবাহ দানের। সময়ের পরিক্রমায় কিশোর ও সুবল দুজনেই যৌবনে উপনীত হয়।

কিশোরকে বাসন্তীর মনে ধরে। এর মধ্যে কিশোর ও সুবল পাকা জেলে হয়ে উঠে। দুজনে কিশোরের নৌকাতেই কাজ করে। কোন একদিন দুজনে বড় গাং এর মধ্যে দিয়ে রওনা হয় এক অভিজ্ঞ বুড়ো জেলেকে সাথে নিয়ে দূর দেশে গিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে। বেশ কয়েকদিন যাত্রার পর মেঘনার গহীনে এক গ্রামের কাছে গিয়ে তারা উপস্থিত হয়।

সেই গ্রামের মোড়লের অনুমতি নিয়ে তারা সেখানে মাছ ধরায় মনোনিবেশ করে। এই দূরদেশের এক মেয়েকে পছন্দ হয়ে যায় কিশোরের, দ্রুতই তারা বিয়ে সেরে ফেলে। বিয়ের কয়েকদিন পর কিশোর ও তার সঙ্গীরা বাড়ি ফিরতে মনস্থির করে। অতঃপর তারা নতুন বউ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ফেরার সময় একরাতে কিশোরের ঘুমন্ত নৌকায় ডাকাত পরে।

জেলেদের এতদিনের কষ্টের উপার্জিত টাকা এবং নতুন বউকে ডাকাতরা ধরে নিয়ে যায় তাদের অলক্ষ্যে। নতুন বউ নিজের আত্মরক্ষার্থে ডাকাতের নৌকা থেকে ঝাপিয়ে পরে। অনেকক্ষণ সাঁতার কাটার পর বউ একসময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে তীরে ভেসে আসে। বউকে উদ্ধার করে দুই বুড়ো জেলে গৌরাঙ্গ ও তার ভাই নিত্যানন্দ।

বউকে তারা নিজেদের কাছে রেখে মেয়ের মর্যাদা দেয়। কিছুদিন পর বউয়ের একটি ছেলে হয় যার নাম দেয়া হয় অনন্ত। অন্যদিকে বউ আর টাকা পয়সা হারিয়ে কিশোর বাড়ি ফিরে পাগল হয়ে। সুবল আর বাসন্তীর বিয়ে হয়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বিয়ের কয়েকদিন পরেই রাতে নৌকায় কাজ করতে গিয়ে মারা পরে সুবল, বিধবা হয় বাসন্তী।

তিতাস একটি নদীর নাম PDF

এভাবেই উপন্যাসটির কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে। লেখকের সহজ-প্রাঞ্জল ভাষার প্রয়োগ, গল্পের প্রত্যেকটি বিষয়বস্তু সুচারুভাবে উপস্থাপন উপন্যাসটিকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। উপন্যাসটিতে ক্ষণে ক্ষণে নাটকীয়তার উদ্ভব পাঠককে গল্পের সাথে এক আত্মিক বন্ধন স্থাপনে সাহায্য করবে। উপন্যাসটি বাঙলা সাহিত্যে নিজের যে অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে তা চির অম্লান।

তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসের কটি খন্ড

তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসের প্রধান চরিত্র

তিতাস একটি নদীর নাম কবিতা

তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসের লেখক কে

Titas ekti nadir naam pdf download

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.