উপন্যাস

হাজার বছর ধরে PDF Download জহির রায়হান

হাজার বছর ধরে PDF Download জহির রায়হান, ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটির রচয়িতা বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান। জহির রায়হান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস হিসেবে এটি পাঠক সমাজ এ বিপুল সমাদৃত। লেখক এই উপন্যাসটির জন্য আদমজী সাহিত্য পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

হাজার বছর ধরে উপন্যাসের লেখক কে

জহির রায়হান উপন্যাসটি লিখেছিলেন একটি ফরমায়েশী লেখা লেখতে গিয়ে, তখন তার বয়স মাত্র ২৯ বছর। গাজী শাহাবুদ্দিন যিনি কি না ‘সচিত্র সন্ধানী’র সম্পাদক ছিলেন, তিনি তার বন্ধু জহির রায়হানের কাছে ‘সচিত্র সন্ধানী’র ঈদ সংখ্যার জন্য অনেকদিন ধরেই একটি উপন্যাস লেখার কথা বলছিলেন।

হাজার বছর ধরে উপন্যাস রিভিউ

কিন্তু লেখক তখন তার চলচিত্র পরিচালনার কাজে ব্যস্ত থাকায় তা লেখতে পারছিলেন না। তারপর হঠাৎ একদিন গাজী শাহাবুদ্দিন জহির রায়হানকে একরকম জোর করে বাসায় নিয়ে গিয়ে বলেন সাতদিনের মধ্যে উপন্যাস লেখে দিতে হবে, যতদিন লেখা শেষ হবে না লেখক বাসা ছেড়ে বের হতে পারবেন না।

লেখকের যা কিছু প্রয়োজন হবে তার বন্ধু তাকে যোগান দিয়ে যাবেন। আর এভাবেই বাংলা ভাষার অন্যতম কালজয়ী একটি উপন্যাসের সৃষ্টি হলো। একজন চিত্রশিল্পী যেমন রঙ-তুলির মাধ্যমে কোনো দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেন, জহির রায়হান ঠিক তেমনি অক্ষরের সাহায্য নিয়ে এই উপন্যাসটি ফুটিয়ে তুলেছেন।

হাজার বছর ধরে উপন্যাসের সারাংশ

উপন্যাসটিতে লেখক দেখিয়েছেন যুগের আবর্তনে সময় কেটে যায় কিন্তু অন্ধকার, কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রাম বাংলার চিন্তা চেতনার পরিবর্তন সহজে আসতে চায় না। উপন্যাসে যে সমাজের কথা আলোচনা করা হয়েছে সে সমাজে নারীর কোন অধিকার নেই। নারী পুরুষের হাতের পুতুল, পুরুষ তাকে যেভাবে পরিচালনা করবে সে সেভাবেই পরিচালিত হবে।

উপন্যাসটি শুধুই একটি উপন্যাস নয় এটি ৫৬ বছর আগের সমাজের একটি দর্পণ স্বরূপ। উপন্যাসটি শুরু হয়েছে পরী দীঘির বর্ণনা দিয়ে। পরী দীঘির পাড়ে একটি গ্রাম যা নিয়ে উপন্যাসটির মূল বিষয় বস্তু গড়ে উঠেছে। এ গ্রামের গোড়া পত্তন কখন কিভাবে হলো কেউ তা জানে না।

এক বন্যায় কাসেম শিকদার ও তার স্ত্রী ছমিরন বিবি ভেসে এসেছিলো এই এলাকায় তারপর ভালো লেগে যাওয়ায় এখানেই থেকে যায় আর শিকদার বাড়ির পত্তন হয়। শিকদার দম্পতির কোনো সন্তান ছিলো না, ছরিমন বিবির পরামর্শে তাই আবার বিয়ে করে কাসেম। কাসেমকে অন্য নারীর সাথে দেখে অভিমানে ছরিমন বিবি আত্ম হননের পথ বেছে নেয়।

হাজার বছর ধরে উপন্যাসের সেরা উক্তি

এতো গেল পূর্ব যুগের কাহিনী, উপন্যাসের বর্তমান সময়ে শিকদার বাড়িতে বসবাস মকবুল বুড়ো, তার তিন বউ ও মকবুলের একমাত্র কন্যা সন্তানের। আমেনা, ফাতেমা আর টুনি হলো মলবুলের তিন বউ যাদের হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে সংসার চলে। মকবুলের নিজেস্ব কোন উপার্জন নেই।

মকবুল জমিতে কোদাল চালাতেও বউদের নিয়ে যায় কারণ তার কাছে কামলার খরচ অযাচিত মনে হয়, এসবের পরেও রাতে স্বপ্নের মাঝেও মকবুল দেখে সে জমিতে চাষ করাচ্ছে বউদের দিয়ে। মকবুলের এসব অত্যাচার দেখে মাঝে মাঝে বাধা দিতে যায় ফকিরের মা। কিন্তু মকবুল তার কথা কানেও তোলে না।

উপন্যাসের মূল চরিত্র হলো মন্তু। মন্তু আর টুনির বয়স কাছাকাছি হওয়ায় তাদের মধ্যে সখ্যতা লক্ষ্য করা যায় উপন্যাসে, তারা একসাথে রাতের আধারে অন্যের পুকুর থেকে মাছ ধরে আনে। এসবের মাঝেই তাদের বন্ধুত্বের মাঝে ভালোবাসা দানা বাঁধতে শুরু করে। উপন্যাসের আরেকটি চরিত্র হলো আবুল যে তার আগের দুই বউকে মেরে ফেলেছিলো।

হাজার বছর ধরে উপন্যাসের শেষ লাইন

আবুল বউ পিটিয়ে এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ পায় এবং তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তার তৃতীয় বউ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আবুলের বউ বিদ্বেষী মনোভাবের কড়া সমালোচক আবার মকবুল বুড়ো যে নিজেও বউদের মারে। আরেক চরিত্র আম্বিয়া যার কি না লজ্জা শরম একটু কম সেও মন্তুকে ভালোবেসে ফেলে আর তখন টুনি মকবুলকে বুদ্ধি দেয় আম্বিয়া কে বিয়ে করার।

যার ফলে মকবুল তার প্রথম দুই স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয় এবং মকবুলের সংসার ভেঙে পরে। গনু মোল্লা চরিত্রটি যেকোনো বিপদে সবার পাশে দাঁড়ায় এবং ঝাড়ফুঁক করা, বাড়ি বন্ধ করা, তাবিজ করা তার কাজ। এভাবেই আরো অনেক কাহিনী যা বর্ণিত হয়েছে উপন্যাসটিতে যেন জীবন্ত মনে হতে থাকে যতই উপন্যাসের অভ্যন্তরে যাওয়া যায়।

হাজার বছর ধরে PDF

‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটিতে লেখক অতিসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন সমসাময়িক কালের গ্রাম বাংলার কথা, যাতে কোন অতিরঞ্জন নেই, কোন আদিখ্যেতা নেই। শুধু আছে গ্রাম বাংলার অতিতের সত্য চিত্র। উপন্যাসটি যে শুধু পাঠককে অতীতের বাংলার চিত্র সম্পর্কে অবহিত করবে তাই নয়, বরং সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করার এক পথ নির্দেশক হিসেবেও কাজ করবে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.