প্রবন্ধ

যদ্যপি আমার গুরু PDF Download আহমদ ছফা

যদ্যপি আমার গুরু PDF Download আহমদ ছফা, “যদ্যপি আমার গুরু” বইটি লিখেছেন একজন সব্যসাচী,সৃষ্টিশীল লেখক আহমদ ছফা। সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন আহমদ ছফা। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, গান, প্রবন্ধ, অনুবাদ, ইতিহাস, ভ্রমণ কাহিনী সব ক্ষেত্রেই তার রয়েছে অবাধ বিচরণ। বইটি আহমদ ছফার এক অনবদ্য সৃষ্টি যার মাধ্যমে আমরা জাতীয় প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক এর কথা জানতে পারি।

বইটির মুদ্রিত মূল্য একশত পঁচাত্তর টাকা। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১০। বইটি মাওলা ব্রাদার্স প্রকাশনী থেকে ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাককে যদি চলমান বিশ্বকোষ বলা হয় তাহলে কম বলা হবে না। নানান বিষয়ে তার পাণ্ডিত্য। যেমন অর্থশাস্ত্র, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়ে তিনি মতামত দেয়ার ক্ষমতা রাখেন।

যদ্যপি আমার গুরু রিভিউ

বইটির লেখক আহমদ ছফা তার সংস্পর্শে কিভাবে এলেন জানতে হলে পড়তে হবে বইটি। ১৯৭০ সালের দিকে বাংলা একাডেমি তিন বছরের ফেলোশিপ প্রোগ্রামে প্রার্থীদের থেকে আবেদনপত্র আহ্বান জানিয়ে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলে বন্ধু-বান্ধবদের উৎসাহে সেখানে একটি আবেদন করেন এবং বৃত্তির জন্য মনোনীত হন।

তিনি বাংলা বিভাগ থেকে এসে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুবাদে তার বিরুদ্ধে কথা উঠলে লেখক তার ধারালো ভাষাশৈলী দ্বারা উদ্ধার হয়ে যান। তার গবেষণাপত্রের থিসিস দেখাশোনার জন্য একজন সুপারভাইজার হিসেবে তিনি প্রফেসর রাজ্জাককে বেছে নেন এবং তার বাড়িতে তারা যাতায়াত শুরু হতে থাকে।

রাজ্জাক স্যার লেখকে মৌলবি আহমদ ছফা নামে ডাকা শুরু করেন। লেখক তার নিজের জবানিতে প্রফেসর রাজ্জাকের বিভিন্ন দিকগুলো তুলে ধরেছেন। প্রফেসর আহমদ ছফার মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গি, স্বচ্ছতা নির্মাণে নিষ্কাম জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে প্রচলিত জনমত উপেক্ষা করে নিজের বিশ্বাসের প্রতি আস্থাবান থাকার ব্যাপারে প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাকের মতো তাকে অন্য কোনো জীবিত বা মৃত মানুষ প্রভাবিত করতে পারেননি।

প্রফেসর রাজ্জাককে যে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী, সেই অগাধ পাণ্ডিত্য, সেই জানার ক্ষমতা লেখককে তার পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ প্রফেসর রাজ্জাকের জানার ক্ষমতা লেখক কে অভিহিত করে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জানতে লেখক আগ্রহবোধ করে। যার ফলে তার পিএইচডির লেখা শেষ হয়নি।

লেখক ১৯৭২ থেকে ১৯৮৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রফেসর রাজ্জাকের সংস্পর্শে আসেন এবং প্রফেসর রাজ্জাকের প্রজ্ঞা বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি বিষয়গুলো অবলোকন করেন। প্রফেসর রাজ্জাকের সংস্পর্শে আসা বিভিন্ন মানুষজন প্রফেসর রাজ্জাকের প্রত্যেকটি বিষয়ের উপর অগাধ পাণ্ডিত্য, অগাধ জ্ঞান লেখককে মুগ্ধ করে।

প্রফেসর রাজ্জাক তার বৈষয়িক জীবনে কোন বিবাহ করেননি। তিনি সবসময় ঢাকাইয়া বুলিতে কথা বলতেন। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় তিনি এত জ্ঞানের অধিকারী হয়েও কখনো কোন বই লেখেননি বা তার পদোন্নতির জন্য কোন আকাঙ্ক্ষা তার ভেতরে জাগ্রত হয়নি।

এর কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে লেখক বলেছেন যে হয়তো জীবনে তার অতটা চাওয়া পাওয়া ছিল না এবং লেখালেখির বিষয়ে তার কোনো আগ্রহ ছিল না। তবে কিছু না লিখেই শুধুমাত্র সাহচর্য, স্পর্শের মাধ্যমে কত কত আকর্ষিত তরুণদের মধ্যে প্রশ্নের অংকুর জাগিয়েছেন প্রফেসর রাজ্জাক।

ইংরেজ কবি শেক্সপিয়ার, জার্মান কবি গ্যোটের জীবনের বেশিরভাগ অন্যান্য জায়গায় কাটালেও তাদের জন্মভূমি দিয়ে তাদেরকে আখ্যায়িত করা হয়েছে তেমনি প্রফেসর রাজ্জাককে একজন ঢাকাইয়া মানুষ হিসেবে আমরা আখ্যায়িত করতে পারি। খাওয়া-দাওয়া, রান্না-বান্না, আচার-আচরণে ঢাকায় বৈশিষ্ট্যগুলো প্রফেসর রাজ্জাক ও তার পরিবার অতি সযত্নে রক্ষা করে গেছেন।

সে সময় প্রফেসর রাজ্জাক বাঙালি মুসলমানের দৃষ্টি দিয়ে পৃথিবীকে দেখেছেন এবং বিচার করেছেন। আবার পৃথিবী দেখার চোখ দিয়ে বাঙালি মুসলমান সমাজকে বিচার বিশ্লেষণ করেছেন। নিজের সামাজিক অবস্থানের উপর দাঁড়িয়ে এবং নিজের সামাজিক পরিচিতির আদি বৈশিষ্ট্যসমূহ গৌরবের সংগে ধারণ করে একটা বিশ্বদৃষ্টির অধিকারী হওয়া কারো পক্ষে সহজ নয়।

যদ্যপি আমার গুরু Rokomari

এই বাঙালি মুসলমান সমাজকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সাবালক করার পেছনে তার যে অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে তা অন্য কোন মানুষের সাথে তুলনা হয় তো করা যাবেনা। রাজ্জাকের সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য বিষয় হলো তার নিজের দেশ, সমাজের প্রতি নির্শর্ত অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার প্রফেসর রাজ্জাককে সবার থেকে আলাদা করে রেখেছে।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পণ্ডিতদের সঙ্গে তার সম্পর্ক, বিলেত-আমেরিকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তার কিরূপ সমাদর, দেশের প্রবীণ মানুষজন এবং ক্ষমতাবান মানুষদের সঙ্গে তার যেমন উঠাবসা প্রফেসর রাজ্জাক তার প্রজ্ঞা এবং ভালোবাসা দ্বারা তাদেরকে কাছে নিয়ে এসেছেন। সবার সাথে এমন ভাবে কথা বলেছেন যেন কেউ মনে কষ্ট না পান।

আহমদ ছফা বই PDF Download

পরবর্তীতে তার শেষের জীবনে তিনি অতটা বিচার-বিবেচনা করে কথা বলেননি। তার পছন্দের এবং বিশ্বাসযোগ্য মানুষদের কাছে তিনি মনের যত কথা সবগুলোই প্রকাশ করে গেছেন। লেখক আহমদ ছফা প্রফেসর রাজ্জাকের সংস্পর্শে যেভাবে ছিলেন তার পক্ষে এই বইটি লেখা সম্ভব। দিন তারিখ ঠিক না থাকার পরেও লেখক সুন্দরভাবে প্রফেসর রাজ্জাকের বর্ণনা দিয়ে গেছেন।

বইটির কিছু কথা খুবই ভালো লেগেছে। যেমন ‘সৃষ্টিশীল মানুষেরা সাধারণত বিপদজনক ধরনের হয়ে থাকেন। বাইরে তারা যতই নিরীহ এবং অপরের প্রতি মনোযোগী হয়ে থাকুন না কেন ভেতরে তাদের স্বেচ্ছাচারী হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। “কোন জাতিকে বিবেচনা করতে হলে বইয়ের দোকান এবং স্থানীয় কাঁচা বাজারে যেতে হয় কারণ বইয়ের দোকান পড়লেই ব্যবাক সমাজ কোন দিকে যাইতাছে হেইডা টের পাওন যায়”।

যদ্যপি আমার গুরু PDF

আপনি যখন মনে করলেন কোন বই পইড়া ফেলাইলেন নিজেরা জিগাইবেন যে বইটা পড়ছেন নিজের ভাষায় বইটা আবার লিখতে পারবেন কিনা। আপনার ভাষায় জোর লেখক এর মত শক্তিশালী না হইতে পারে। আপনার শব্দভাণ্ডার সামান্য হইতে পারে তথাপি যদি মনে মনে আসল জিনিসটাই প্রডিউস না করবার পারেন তাইলে বুজবেন আপনার পড়া অইনাই।”ক্ষেত চশমার সময় জমির আইল বাইন্ধা রাখতে হয়।” লেখক এর বইটি একাধারে একটি গবেষণাকর্ম প্রফেসর রাজ্জাকের উপরে।

যদ্যপি আমার গুরু PDF

যদ্যপি আমার গুরু দাম

যদ্যপি আমার গুরু মানে কি

যদ্যপি আমার গুরু উক্তি

যদ্যপি আমার গুরু অর্থ

গাভী বৃত্তান্ত pdf

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.