থ্রিলার

প্রায়শ্চিত্ত প্রকল্প PDF Download জুবায়ের আলম

লেখক জুবায়ের আলম এর বই খুব বেশি বের হয় নি। তবে যা বেরিয়েছে সবই মাস্টার পিস! সব গুলোই পাঠক মহলে নজর কাড়তে পেরেছে। তাঁর আরও একটা দীর্ঘ কলেবরের থ্রিলার উপন্যাস হলো ‘প্রায়শ্চিত্ত প্রকল্প’। ২০১৮ সালে প্রথম প্রকাশ হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৪ বার এর বেশি মুদ্রিত হয়েছে। অর্থাৎ বুঝায় যায় তিনি বেশ ভালোই লিখেন। এই প্রায়শ্চিত্ত প্রকল্প বলতে কি বুঝিয়েছেন সেটা বইটা না পুরো না পড়ে কিছুতেই বুঝবেন না। যাই হোক, আপনারা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে দারুন এই বইটার পিডিএফ পড়ে ফেলতে পারেন।

কাহিনী সংক্ষেপ

অপরাধীর প্রায়শ্চিত্ত কি? কারাগারের বন্দিশালা নাকি মৃত্যুদন্ড? যেন এরই উত্তর খুজতে মহিউদ্দিন হক ফিরোজ বিদেশের সম্মান আর বিত্তের মোহ ছেড়ে ফিরে আসেন দেশে। গড়ে তোলেন MRAU নামের গপন একটা সংস্থা। ভীষন গোপনীয়তার সাথে দেশের ভয়ংকর কিছু অপরাধীদের কে নিয়ে শুরু করেন প্রায়শ্চিত্ত প্রকল্প। সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই চলছিলো, কিন্তু একদিন প্রকল্প প্রধান ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট ডাঃ বশির জামান সহ কিছু অপরাধী এক রহস্যময় দুর্ঘটনায় নিখোজ হয়। রহস্যময় দুর্ঘটনা!

ছড়িয়ে পড়তে থাকে প্রায়শ্চিত্ত প্রকল্পের বিষাক্ত কালি। এই কালি তে জড়িয়ে যায় হারানো বাবাকে খুজতে দেশে আসা ইতালিয়ান তরুণী মেরিলিনা। তার সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে ওসি খাইরুল ইসলাম, যে পাচ বছর আগে নিজের বোনের রহস্যময় মৃত্যু মেনে নিতে পারে নি এখন পর‍্যন্ত। প্রায়শ্চিত্ত প্রকল্পের কালি মুছতে মরিয়া হয়ে উঠেন মেজর জেনারেল ফিরোজ। বাধ্য হয়ে হাত পাতেন ঈশ্বর বাগচি নামক রহস্যময় মানুষটার কাছে, যিনি জীবনের বিনিময়ে মৃত্যু আর মৃত্যুর বিনিময়ে জীবন দান করেন।

কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয় না। শহরে শুরু হয় বীভৎস সব হত্যাকান্ড। কারা এই পোসাইডন, হেডিস আর প্রমিথিউস? শহরের দেয়ালে দেয়ালে সেই দেয়াল লিখনেরই বা উদ্দেশ্য কি? কোনো দুর‍্যোগের পূর্বাভাস কি এটা? বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মতো। এই টালমাটাল সময়ে ক্ষমতার লোভে এর জেনারেল খুলে দেন নরকের দুয়ার। দেশে প্রবেশ করে হিংস্র এক অপরাধী সংগঠন চক্র। সবকিছু কি ফিরোজের নিয়ন্ত্রনে থাকবে, নাকি এই প্রায়শ্চিত্ত প্রকল্পের আগুনে জ্বলে পুরে সব ছারখার হয়ে যাবে?

অনেকদিন পর দেশীয় একটা মাস্টারপিস থ্রিলার পড়লাম। প্রায় ৩২০ এর বেশি পেইজের বইটা পড়তে সময় লেগেছে মাত্র দুই দিন! প্রথমে অর্ধেক শেষ করার পর বাকি অর্ধেকটা যত তাড়াতাড়ি পারা যায়, শেষ করেছি। বলতে গেলে পুরোটা সময়ই বইটা চুম্বকের মতো ধরে রেখেছিলো। এবং ধরে রাখতে বাধ্য! বইয়ের স্টোরীলাইন যথেষ্ট ভালো, তবে বেশি মুগ্ধ হয়েছি লেখকের চমৎকার লেখনীশৈলী দেখে।

বর্তমান সময়ে দেশে প্রতিনিয়ত শয়ে শয়ে লেখকের উতপত্তি ঘটছে যদিও, তবে এমন অসাধারণ লেখিনী শক্তি নিয়ে হাতে গোণা কয়েকজন ব্যতিত তেমন কেউই আত্মপ্রকাশ করতে পারেন না। লেখকের প্রাঞ্জল আর সাধারণ বর্ণনাভংগির মধ্যেও এক্সট্রাঅরডিনারি কিছু একটা ছিলো। আর সেটাই আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে একেবারে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত!

প্রতিটা অধ্যায় ভেদে শিরোনাম ছিল। আর প্রত্যেক টা পরতে ছিলো সাসপেন্স, থ্রিল আর তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো সব টুইস্ট। মৃত্যুভয় নিয়ে ছুটে পালানো, কাছের মানুষদের বিশ্বাসঘাতকতা, মাস্টারমাইন্ড চাল, প্রতিশোধ, ভালোর আড়ালে খারাপের মুখোশ আর খারাপের আড়ালে ভালোর, অজানা সত্যগুলো সবার অগোচরে চাপিয়ে রেখে কিছু মিথ্যাকেই সত্য হিসেবে আকড়ে ধরে বেচে থাকা। কি ছিলো না বইটাতে। এছাড়াও ছিল কিছু মানুষের অতীত গল্পও!

সবশেষে বলবো, মাস্টারপিস একটা বইতো বটেই। এরকম লিখনশৈলীর সাথে এরকম কাহিনীর চমৎকার কম্বিনেশন খুব একটা চোখে পড়বে না। তাই বইটা নির্দ্বিধায় পড়ে ফেলতে পারেন।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.